Showing posts with label সম্পাদকীয়. Show all posts
Showing posts with label সম্পাদকীয়. Show all posts

Tuesday, March 20, 2012

ডার্টি পিকচার ও আমাদের গণতন্ত্র-মো. জাকির হোসেন

প্রথম আলো ধেকে সংগৃহীত: বলিউডের আলোড়ন সৃষ্টিকারী হিন্দি ছবি ডার্টি পিকচার। দুই প্রজন্মের দুই তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী নাসিরুদ্দিন শাহ ও বিদ্যা বালান ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটি আমার দেখা হয়নি। আকাশ টিভির সৌজন্যে ছবিটির কিছু দৃশ্য এবং দুটো গানের ভিডিওচিত্র দেখেছি। তাতেই বোঝা হয়ে গেছে, কেন ছবিটির নাম ডার্টি পিকচার। নানা কারণে ছবিটি আলোচিত-সমালোচিত। ডার্টি পিকচার-এর একটি গান ‘ও লা লা, ও লা লা’ এখন বেশ হিট। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে ক্লাসে আলোচনার সময় আমি ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞাসা করি, ডার্টি পিকচার নিয়ে আলোচনায় তোমরা যে সময় ব্যয় করো, ততটুকু সময় কি বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে ব্যয় করো? উত্তর আসে, না। আমার প্রশ্ন, কেন? ছাত্রছাত্রীরা সমস্বরে জবার দেয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ডার্টি পিকচার-এর চেয়েও ডার্টিয়ার। উত্তর শুনে নড়েচড়ে উঠি। উৎসাহ বোধ করি ব্যাখ্যা শোনার জন্য। তাদের জবাব, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ক্ষমতার পালাবদলের (জ্বলন্ত উনুন থেকে ফুটন্ত কড়াইয়ে) অর্থাৎ যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার ফাঁদে আটকা পড়েছে। এখানে দলীয় আদর্শ, নীতিনৈতিকতা, জনগণের চাওয়া মুখ্য বিষয় নয়। আর তাই ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হলেও সেই থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনকে সূক্ষ্ম, স্থূল কিংবা ডিজিটাল কারচুপি আখ্যা দিয়ে বিরোধী দল বছরের পর বছর সংসদে অনুপস্থিত থেকেছে। জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ না করলেও জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় সব ভাতা গ্রহণ করেছে। বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি করেছে। বিদেশ ভ্রমণ করেছে। এটি কি শ্লীল গণতন্ত্রচর্চা হতে পারে? আর বিরোধী দল যখন উপস্থিত হয়েছে তখন সরকারি ও বিরোধী দলের অনেক সংসদ সদস্যের মধ্যে যে অশ্রাব্য বাক্যবিনিময় হয়েছে, তাকে কি ডার্টিয়ার ডেমোক্রেসি বলা অন্যায় হবে? দীর্ঘদিন পর রোববার বিরোধী দল সংসদে ফিরে এসেছে। বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব দিতে গিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা শুনে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। সম্মানিত(!) সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘তিনি মইন উ আহমেদের কোল ছাড়া আর কোথায় কোথায় বসেছেন, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্কে বলেছেন, ‘টেলিভিশনে তাঁর বিশ্রী হাসি দেখে ভয়ে মানুষ টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়।’ আইন প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাংসদ বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাঁর কাপড়চোপড় খুলে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশিদের নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুইজন মন্ত্রীর লুঙ্গি তুলে ভারতের মহিলা পুলিশ দিয়ে পেটানো হবে।’ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ যখন সুন্দর কাপড় পরা পরিপাটি গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখে, তখন সাংসদ রেহেনা আক্তার রানু মন্ত্রীদের কাপড় খোলার হুমকি দিয়ে কি আমাদের গণতন্ত্রের কাপড় খুলে ফেলেননি? ডার্টি পিকচার-এর ‘ও লা লা, ও লা লা’ গানটি যেমন পরিবারের সব সদস্য নিয়ে দেখার মতো নয়, একজন মহিলা সাংসদের গণতন্ত্রের কাপড় খোলা বক্তব্যও কি পরিবারের সব সদস্য নিয়ে শোনার মতো! গণতন্ত্র বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন তৈরির কারখানা হলো পার্লামেন্ট। অক্সিজেন তৈরির কারখানাকে অকার্যকর রেখে কি গণতন্ত্রচর্চা সম্ভব? ছাত্রছাত্রীদের কথা শুনে আমার একটা গল্প মনে পড়ে যায়। এক আমেরিকানের চায়নিজ বন্ধু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। আমেরিকান বন্ধু চায়নিজ বন্ধুকে হাসপাতালে দেখতে যায়। হাসপাতালে শয্যার পাশে আমেরিকান বন্ধু দাঁড়ানোর পর চায়নিজ বন্ধু ‘নি চাদোয়ান লা উয়াদা ইয়াংজি গুয়ান’ বলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আমেরিকান বন্ধু চায়নিজ ভাষা জানত না। মৃত্যুর আগে বন্ধু তাকে কী বলেছে, তা জানার জন্য আমেরিকান বন্ধু আরেকজন চায়নিজের শরণাপন্ন হলে চায়নিজ ব্যক্তিটি তাকে জানান, এর অর্থ হলো, ‘যে অক্সিজেন পাইপ দিয়ে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা হয়েছে, তুমি তার ওপর দাঁড়িয়ে আছ, আমি মরে যাচ্ছি। গণতন্ত্রের পরম বন্ধু আমাদের রাজনীতিবিদেরাও কি জনগণের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়ে গণতন্ত্রের অক্সিজেন পাইপের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন? ছাত্রছাত্রীদের নির্মোহ বিশ্লেষণ আমাকে আরও আগ্রহী করে তোলে। আমি আরও শুনতে চাই। তারা বলে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির সমার্থক হয়ে উঠেছে। ব্যক্তি যখন গণতন্ত্রের সমান হয়ে ওঠে, তখন আর তা গণতন্ত্র থাকে না। শাসনব্যবস্থা তখন শ্লীলতার সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং তার কাছে আইনের শাসন পরাজিত হয়। মানবাধিকার অপসৃত হয়। জনগণের স্বপ্নের পশ্চাদপসরণ ঘটে। ন্যায়বিচার নিজেই অবিচারের শিকার হয়ে পড়ে। ডার্টিয়ার ডেমোক্রেসি সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের বিশ্লেষণ শেষ হয় না। তাদের ক্ষোভমিশ্রিত বিশ্লেষণ চলতে থাকে। এক ছাত্র দাঁড়িয়ে বলে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পলিসির মাধ্যমে আমাদের যেভাবে বিভক্ত করেছিল, আমাদের ডেমোক্রেসি তার চেয়ে বহুগুণে এবং বহুমাত্রিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। পিয়ন থেকে শুরু করে অফিসের বড় কর্তা আজ ভয়াবহ রাজনৈতিক বিভক্তির শিকার। সরকারি চাকরিজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আমলা, শিক্ষকের নামের আগে আজকাল আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থী কিংবা বামপন্থী যোগ করে পরিচিত করা হয়। নেতা-নেত্রীদের লাগামহীন অশোভন ও আক্রমণাত্মক বক্তৃতা-বিবৃতি নাগরিকদের ক্রমাগতভাবে হিংসা, বিদ্বেষ ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরূপ হিংসা-বিদ্বেষ আর প্রতিশোধের গণতন্ত্র ডার্টিয়ার নয় কি? নাগরিকদের বিভক্তির কথা মনে পড়লেই একটি ঘটনা আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি যে ভবনে থাকি, সেই ভবনের নিচতলায় একদিন অত্যন্ত অল্প বয়সের দুটো শিশু, যাদের বয়স বড়জোর পাঁচ বছর হবে, তাদের কথোপকথন শুনে থমকে দাঁড়াই। এদের একজন আরেকজনকে বলছিল, আমি তোমার সঙ্গে খেলব না। কারণ, তোমরা অমুক দল করো। শিশুটি আমাদের দুটো বড় দলের একটির নাম উচ্চারণ করে তার সমবয়সীর সঙ্গে খেলতে অস্বীকার করে। ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে আমার কেবলই মনে হতে থাকে, তরুণ প্রজন্মের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের ডার্টিয়ার ডেমোক্রেসি কি তাহলে ডার্টিয়েস্ট কিছু নিয়ে অপেক্ষা করছে? কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো সম্পাদকীয়-২০ মার্চ ২০১২ মো. জাকির হোসেন আইন অনুষদের ডিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। zhossain@justice.com

Friday, December 17, 2010

এস, সমবেত হই আমরা

এমন দু:সময় আমরা অতিবাহিত করছি যে, কোন ব্যাপারেই আমরা একমত হতে পারি না। একমত হওয়াতো দূরের কথা নিজেরাই বুঝতে পারিনা কোন মতটা আমাদের প্রকাশ করা উচিত। সকাল বেলাতে যে মতের স্বীকারোক্তির জন্য আমরা হই পাগল, বিকাল বেলাতেই নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য হয় সেই মতেরই প্রতিপক্ষ। আমরা আজ প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে আছি, নিজেরা কত ভালো এটাই প্রমান করবার জন্য। সাধারণত দু'ভাবে আমরা নিজেকে ভালো প্রমান করতে পারি; এক। নিজে ভালো কিছু করে আর দুই হল প্রতিযোগীকে আরো নীচে নামিয়ে। নিজেকে জয়ী করবার জন্য আমাদের পছন্দ দ্বিতীয়টি। সত্যিই পরিতাপের বিষয় আমাদের মায়ের জন্য। সেতো স্বপ্নেও এরকমটি একবারের জন্যও ভাবেনি, কেউই নিজের জন্য খারাপটি ভেবে রাখে না। ভাগের মা গঙ্গা পায় না, আমাদের মায়েরও সে রকমেরই বিষয়।ত্রিশ লক্ষ সন্তানহারা মা আজ নির্বিকার তার বেঁচে থাকা সন্তানদের কার্যকলাপ দেখে। তার সন্তানেরা আজ দ্বিধাবিভক্ত। এই মায়ের সোনায়সোহাগা সংসার দেখে কে না হিংসা করেছে; আর আজ কিনা সবাই করতে চায় তাকে অবজ্ঞা অবহেলা। সেই যে শুরু দ্বিজাতি তত্ত্ব দিয়ে, তার পর শুধুই ভাগ আর ভাগ; কত ছোট ভাগ করা যায় সেটারই পাল্লা। মায়ের সন্তানেরা আজ এতটাই বিভাজিত কোন কিছুতেই আজ আর ঐক্যমত নামক শব্দের কোন ছায়া নেই। রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধা, ভারত-পাকিস্তান, আওয়ামীলীগ-বিএনপি, সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, নারী স্বাধীনতা-পুরুষ প্রাধান্যতা,ধর্মহীনতা-ধর্মনিরেপেক্ষতা এরকমেই হাজারো ইস্যুতে সন্তানেরা আজ বিভক্ত। তারা নিজেরা সামান্য কিছু করার থেকে অন্যর সামান্য প্রচেষ্টার মধ্যে অসামান্য ত্রুটি খুঁজতে সময় ব্যায় করেন। টেলিভিশনের পর্দা জুড়ে আজ টকশো মায়ের সন্তানদের বিনোদন টুকুও কেড়ে নিছে বিভাজনের কড়াল গ্রাসের মাঝখানে।
মায়ের ত্রিশ লক্ষ সন্তানের আত্মা কতটা শান্তিতে আছেন, মা শুধুই এটাই হয়ত ভাবে। আর প্রতীক্ষা করে আরো একটি রেঁনেসার। মা কখন অশা ছাড়ে না; মা জানে সাত কোটি সন্তানের মধ্যে যদি ত্রিশ লক্ষ সন্তানের আত্মা মায়ের পায়ে সমর্পন করতে পারে; ষোল কোটির মধ্যে নিশ্চয় কম হবে না, বেশীয় হবে। মা শুধু জানে না, তার সন্তানেরা এখন আধুনিক হয়েছে!দু:খিনী মায়ের জন্য কিছু করার থেকে বরং যারা করেছে সেই করাটার মান যাচাই বাছাই করতে তাদের বেশী ভালো লাগে। তাদের এই বিশ্বাসটি নেই যে তাদের নিজেরও কিছু করার আছে।
৭১ এর সেই দু:সময়ে, পাক বাহিনী সবাইকে হত্যা করলেও তাদের প্রধান পছন্দ ছিল এদেশের যুব সম্প্রদায়। কারণ তারা যে কোন কিছু ঘটাতে পারে এটাই ছিল তাদের আতংক। সেটা মিথ্যা প্রমানিত হয়নি। তারাই ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা আনেনি কোন বিশেষ ব্যাক্তি বা সম্প্রদায়। আর এটা কারোর পৈতৃক সম্পত্তিও হতে পারে না। আজ আমাদের মাকে তার এই মূমুর্ষ অবস্থা থেকে সুস্থ করতে হলে এগিয়ে আসতে হবে তাদের কেই। ঐক্যমত হতে হবে মাকে বাঁচানোর জন্য। দেশপ্রেম আর মানবধর্মই পারে আমাদের জাতীয়তাটাকে সমুন্নত রাখতে। আমাদেরকেই আনয়ণ করতে হবে আমাদের রেঁনেসাকে। তরুন,আর কতদিন আমরা মাকে কষ্ট দেব?

Saturday, December 11, 2010

পল অ্যাসাঞ্জ: যে সবাইকে ভাবায়

পল অ্যাসাঞ্জ সম্ভবত দুনিয়ার প্রথম কোন রেপিষ্ট যাকে ধরবার জন্য ইন্টারপোল ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। যারা বিষয়টি জানেন না তারা হয়ত ভাবতে পারেন সেকি কোন সাইকো সিরিয়াল রেপিস্ট নাকী এমন বড় কাউকে সে ব্যবহার করেছে তার গোপন ইচ্ছা চরিতার্থ করবার জন্য। আপনারা একদম যে ভুল তা কিন্তু নয়। আসলেই সে বিবস্র করে দিয়েছে ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’কে যা কিনা আমেরিকার অহংকার। শুধু কি তাই আরো কতজনের প্রতি সে তার লোলুপ দৃষ্টি ফেলেছে, সেজন্যই বিশ্বজুড়ে রেড এলার্ট চালু হয়েছিল তাকে যে কোন ভাবে হোক বেশী কিছু করবার আগে ধরবার জন্য।
তিনি ধরা দিয়েছেন। তার যদি এখানেই সমাপ্তি হয়, তারপরেও সেটা ভালো। পৃথিবীর সব রথিমহারথিরা অন্তত কিছু দিনের জন্য হলেও তাদের পর-বিনাশকারী কার্যকলাপে সেভাবে মননিবেশ করতে পারেন নি। যারা কিনা প্রতিনিয়ত মত্ত থাকে একে অন্যকে বিনাশ করবার খেলায়, তারাই সব একহয়ে লেগেছিল পল অ্যাসাঞ্জ কে ধরবার জন্য। কারন তারা বুঝেছিল, এই ব্যক্তি শুধুমাত্র ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’কে বিবস্র করে ক্ষান্ত হবে না, লোলুপ দৃষ্টিতার আরো অনেক জায়গাতেই।
অ্যাসাঞ্জের চাহিদাটি খুব বেশী নয়, সে চায় তথ্যর উন্মুক্ততা। সে খোলাসা করতে চেয়েছিল, গদবাধা দৃশ্যমান জগতের পাশাপাশি যে গোপন অধ্যায়টি সব সময়ই চলতে থাকে তাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া।এটা ঠিক পরিস্কার না তার মনোবাসনা কেন এইরুপ হল। হয়তবা বিশ্বকে বেশী কিছু দেবার থেকে, বৃহত্তর ক্ষতি সাধনের মধ্যে দিয়ে নিজের তৃপ্তি পাওয়াটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তার সেই সার্থটাকেই হয়ত একটা রুপ দিয়ে সেটাকে বৃহৎ স্বার্থতে পরিনত করে সে খুব মজাঔ পাচ্ছিল। তার অতীত তাকে একজন হ্যাকার রুপেই পরিচিত করিয়ে দেয়।
গ্রাম দেশে একটি কথা খুবই পরিচিত-"বেটা নষ্ট হাটে, আর বউ নষ্ট ঘাটে"। কেন? উত্তর একটাই সেখানে তথ্যর অবাধ স্বাধীনতা থাকে; মানুষ নিজের উন্নতি বাদ দিয়ে পরচর্চাতেই বেশী আনন্দ পায়। তথ্যা উন্মুক্ততা কোন কোন ক্ষেত্রে খুব বেশী প্রয়োজন নেই। ছোট্ট একটি পরিবারের কথা বিবেচনা করলেও দেখা যায় অনেক কথা গোপন রাখলে সেটা পরিবারের সাম্যবস্থা রাখতে বেশী অগ্রনী ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে, অ্যাসাঞ্জ যে জন্য সুইডেন কে পছন্দ করেছিল তার কার্যকরমকে এগিয়ে নেবার জন্য সেটা হল সেদেশের আইন ব্যবস্থা। কারন সুইডেনের আইনে তথ্যর সর্বাতক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেই আইনেই মহিলাদের সম্মান রক্ষার্থে রয়েছে আরো জোরালো ধারা।সেই ধারার জের ধরেই তার কাজ আজ থমকে যাওয়ার উপক্রম। এই ঘটনা আমাদের মত সাধরন মানুষকে এটাই জানান দেয়, বৃহৎ কিছু করবার আগে মানুষকে নিজের মধ্যে ভালোকিছুর অনুশীলন করা সবার আগে প্রয়োজন।

লেখক: প্রণবানন্দ পাল
ভাবনাবিদ(ভাবনাজীবি নয়)