Saturday, November 7, 2015

ক্রিকেটই আমার জীবন : শচীন টেন্ডুলকার

সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। ২০১১ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য। ১৯৮৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। জন্ম ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করেছেন ১০০টি সেঞ্চুরি। খেলেছেন ২০০টি টেস্ট। টেস্টে ৫১টি সেঞ্চুরিসহ ১৫ হাজার ৯২১ রান এবং ৪৬৩টি ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪৯টি সেঞ্চুরিসহ ১৮ হাজার ৪২৬ রানের মালিক তিনি।
শচীন টেন্ডুলকারশুধু ভারতের হয়ে খেলা গত ২২ বছর ধরে নয়, তারও অনেক আগে থেকেই ক্রিকেট আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১১ বছর বয়সে যখন সিদ্ধান্ত নিলাম যে ক্রিকেট আমি সিরিয়াসলি খেলব, তখন থেকে ক্রিকেটই আমার জগৎ। এর আগেও আমি ক্রিকেট খেলতাম, কিন্তু সেটা ছিল আমার পড়শি বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে টেনিস বল দিয়ে খেলা—এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। কিন্তু যে মুহূর্ত থেকে আমি ঠিক করলাম, আমি ক্রিকেট খেলব এবং আমার লক্ষ্য হবে ভারতের হয়ে খেলা; সে মুহূর্ত থেকে আমার জীবনে যা ঘটেছে, তা ক্রিকেটকে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে। আমার জীবনের সব দায়িত্ব, সব চাপ সামাল দিয়েছে আমার বড় ভাই অজিত এবং বিয়ের পরে আমার স্ত্রী অঞ্জলি। এ কথা বললে ভুল হবে না, আমার জীবনের মঞ্চে সামনে ছিল শুধুই ক্রিকেট, বাকি সবই পেছনে। 
আমি যখন স্কুলে পড়তাম, অনেকবারই আমার ইচ্ছা হয়েছে প্র্যাকটিসে না গিয়ে আমার বন্ধুদের সঙ্গে খেলি। তাদের সঙ্গে ভেলপুরি, পানিপুরি খেয়ে সময় কাটাই; সিনেমা দেখি, টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলি কিংবা বাসার সামনে ছোটাছুটি করি—১২ বছর বয়সী একটি ছেলের এসবই তো করতে ইচ্ছা করে। কিন্তু আমার কোচ রমাকান্ত আচরেকার তাঁর স্কুটার নিয়ে শিবাজি পার্ক থেকে চলে আসতেন এবং আমাকে নিয়ে যেতেন। তিনি আমাকে ক্রিকেট খেলিয়েই ছাড়তেন। আমি অনেকবার লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রতিবারই তিনি আমাকে খুঁজে বের করতেন। এখন যখন আমি পেছনে ফিরে তাকাই এবং সেসব দিনের কথা ভাবি, যখন আমি ক্রিকেট খেলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াতাম, আমি খুবই আনন্দ পাই এই ভেবে যে এসব আমার জীবনে হয়েছে। এ ঘটনাগুলো না ঘটলে জীবনে আমি অনেক কিছুই পেতাম না। ক্রিকেটে আমার সাফল্যের পেছনে আমার বড় ভাই অজিত এবং কোচ রমাকান্ত আচরেকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
আমি ভারতের ক্রিকেট ক্যাপ প্রথম মাথায় দিই ১৯৮৯ সালে, পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগের প্রস্তুতি ম্যাচে। সেটা ছিল আমার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর অন্যতম। ভারতীয় দলের টুপি, সোয়েটার, জার্সি—সবকিছুই আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি সব সময় মাঠে নেমেছি বড় রান করার জন্য। আমার সব ব্যক্তিগত রেকর্ড, মানুষ আমার যেসব বড় রানের কথা স্মরণ করে—সবকিছুই এসেছে ভারতের হয়ে খেলতে গিয়ে। আমি ভালো বা খারাপ, যা-ই খেলি না কেন, ভারতের হয়ে খেলতে গিয়েই এসব এসেছে এবং সব সময়ই আমার লক্ষ্য ছিল একটাই—মাঠে নেমে ম্যাচ জিতে আসা। এটা করতে গিয়ে আমি যা অর্জন করেছি কিংবা যা অর্জন করতে পারিনি, এসব ছিল আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি সব সময়। আমি বিশ্বাস করি, একজন খেলোয়াড়ের জন্য ম্যাচের আগের প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্ব বহন করে, এটা নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগায় যে আমি আমার সেরাটা দিতে পারব। কিন্তু ম্যাচে কী হবে, সেটা একমাত্র সর্বশক্তিমানই জানেন, আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কখনো ম্যাচের ফল আমাদের পক্ষে যায়, কখনো বিপক্ষে—আমরা সব সময় মাঠে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করি।
স্বপ্ন দেখা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্নের পেছনে শ্রম দেওয়া। আমরা স্বপ্ন দেখি নিদ্রায়, কিন্তু কাজ করি জেগে থেকে; জেগে থাকাটাও আমাদের জীবনে সমান গুরুত্ববহ। আমি যেভাবে নিজেকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করি, তাতে প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আমার হাতে থাকে। নিজের প্রস্তুতির কাজটা আমি নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। মাঠে খেলতে নেমে কোনো খেলোয়াড়ই এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারে না যে আমি আজকে সেঞ্চুরি করব বা পাঁচ উইকেট তুলে নেব। কিন্তু সম্পূর্ণ প্রস্তুতির গ্যারান্টি একজন খেলোয়াড় দিতে পারে, কারণ এটা তার নিয়ন্ত্রণের আওতায়। একজন খেলোয়াড়ের উচিত নিজের নিয়ন্ত্রণের আওতায় যে জিনিসগুলো আছে, সে ব্যাপারগুলোতে সময় দেওয়া। আর যে ব্যাপারগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেগুলোকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া। আমি যখন জানি যে আমি ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং এর চেয়ে আর ভালো কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, তখন আমি নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাই। খেলায় আমি চেষ্টা করি নিজের চিন্তাকে যতটা সম্ভব শূন্য রাখতে, এতে করে আমি যেকোনো বলকে তার মতো করেই খেলতে পারি। এটা আমার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আসে।
এটা ভাবতে আমার খুবই ভালো লাগে যে মানুষ আমার খেলাকে ভালোবেসেছে, আমাকে সমর্থন দিয়েছে, আমার জন্য প্রার্থনা করেছে। এমন অনেক মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, যারা আমার মঙ্গল কামনায় কয়েক সপ্তাহ ধরে উপবাস পালন করেছে। আমি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই এ সবকিছুর জন্য এবং প্রার্থনা করি, সবকিছু যেন এভাবেই চলতে থাকে। যখন কেউ কোনো কাজে নিজের মনপ্রাণ ঢেলে দেয় এবং লাখ লাখ মানুষ তার সেই কাজের প্রশংসা করে—এটা সেই মানুষকে অসীম আনন্দ এনে দেয়, তার প্রতি মুহূর্তের শ্রমকে সার্থক করে তোলে। আমি সেই মানুষ হতে পেরেছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

সূত্র: ডেইলি মোশন ডট কম। অর্ণব গোস্বামীকে দেওয়া শচীন টেন্ডুলকারের সাক্ষাৎকার অবলম্বনে লিখেছেন মনীষ দাশ

আমি কখনো হাল ছাড়ি না: মারিয়া শারাপোভা

মারিয়া শারাপোভা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত টেনিস খেলোয়াড়। শারাপোভার জন্ম রাশিয়ায়, ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল। এ যাবৎ তিনি টেনিসের পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লাম জয় করেছেন। ২০০৭ সাল থেকে মারিয়া জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন।
মারিয়া শারাপোভা১৭ বছর বয়সে আমি উইম্বলডন জয় করি। এর কয়েক বছরের মধ্যেই মারাত্মকভাবে কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে আমার খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমার সামনে অনেক কারণ ছিল, যার জন্য টেনিস খেলাই ছেড়ে দেওয়ার কথা তুলেছিল অনেকে। ইচ্ছা করলেই তখন খেলা ছেড়ে দিতে পারতাম, কিন্তু হাল না ছেড়ে আবার কোর্টে নামার সাহস করি।
সত্যিকার অর্থে, আমার বেড়ে ওঠা ছিল ছাই থেকে। আবর্জনা থেকে আমার পরিবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। আমার শিকড় কোথায়, সেটা আমি জানি। আমার শুরুর সেই কষ্টের দিনগুলো আমি কখনোই ভুলতে পারব না। আমার বাবা-মা দুজনেই বেলারুশ থেকে আসেন। আমি যখন মায়ের পেটে, তখন চেরনোবিল দুর্যোগ ঘটে। বাবা আর মায়ের কাজ চলে যায়। তাঁদের বাকি জীবনটা অনেক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছে। আমি তাঁদের মেয়ে। বাবা চার বছর বয়সে আমার হাতে টেনিস র্যাকেট তুলে দেন। বাবাই ছিলেন আমার প্রথম কোচ। স্কুলে পড়াশোনা আর বাড়ির কাজ শেষ করে প্রতিদিন টেনিস অনুশীলনে নামতাম।
আমি কোনো কিছু ধরলে তা ছাড়ি না। আমার বিখ্যাত কোনো বন্ধু ছিল না, যার মাধ্যমে আমি খ্যাতি অর্জন করতে পারি। কিংবা আমি ফ্যাশন মডেল নই, যাকে কোনো লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন বিখ্যাত করেছে। মূল কথা হচ্ছে, টেনিসই আমাকে সব দিয়েছে। ইনজুরিতে থাকার সময় যখন ম্যাগাজিন আর পত্রিকায় আমার ছবি দেখতাম, তখন ঠিক থাকতে পারতাম না। হাসপাতালে বসে কোর্টে দৌড়ানোর শব্দ পেতাম। আর দৌড়াব বলেই টেনিস কোর্টে ফিরে আসি।
আমি সব সময় মাঠে থাকতে চাই। প্রতিদিন। জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবি না। মাঠে থাকাই সব। খেলা শেষে ঘেমে একাকার হয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।
আমার বেড়ে ওঠা ছিল রাশিয়ার সোচি শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে সোচি নামের বানান করে বলতে হতো। কেউ জানত না সোচি মানচিত্রের কোথায়। এখন আমার জন্য অনেকেই মানচিত্রে সোচি শহরকে চেনে। এটা অনেক আনন্দের। আমি যখন রাশিয়ার পতাকা নিয়ে কোথাও দাঁড়াই, তখন আমার চেয়ে গর্বিত আর কে হয় বলুন?
খেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক টেনিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলাম। যার জন্য মায়ের সঙ্গে প্রায় দুই বছর দেখা হয়নি। তখন আমাদের মুঠোফোন ছিল না, কোনো ই-মেইলও ছিল না। একটা কলম আর এক টুকরা কাগজই ছিল আমার সব। মাকে চিঠি লিখতাম। চিঠি যখন মায়ের কাছে যেত, তখন আমার যে অনুভূতি হতো, তা এখনো শিহরিত করে।
টেনিস খেলার একাডেমিতে অন্য মেয়েরা আমাকে নিয়ে হাসত। বেশি ছোট ছিলাম বলে র্যাগিংয়ের শিকার হতাম। আমাকে টিজ করা হতো। তখন আমি হতাশ হয়ে একা একা কাঁদতাম, কিন্তু আমার লক্ষ্য আমি জানতাম। রেগে দেশে ফিরে গেলে আমি হয়তো আজকের আমি হতাম না। সব সময় আশাবাদী হয়ে থাকলে বিপদে পড়লেও নিজেকে নিজে উদ্ধার করা যায়। কষ্ট করে লেগে থাকতে হয় স্বপ্নের পেছনে।
২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে উইম্বলডন জেতা ছিল আমার জন্য বিস্ময়। এটা স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। কখনোই চিন্তা করিনি মাত্র দুই সপ্তাহে পৃথিবীর সেরা সব টেনিস খেলোয়াড়কে হারিয়ে দেব! ফাইনালে আমি সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে দিই। আমি কতটা দুর্ধর্ষ টেনিস খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলাম, তা ভাবলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। কোনো দিকে মন না দিয়ে টেনিস বলেই আঘাতের পর আঘাত করে গিয়েছি। ফলে ফাইনালে আমার হাতেই ছিল সেরার পদকটি।
বেঁচে থাকার জন্য আমি টেনিস বলকে আঘাত করি, পরিশ্রম করি। আমি সব সময় সবার কাছ থেকে শেখার আগ্রহ নিয়ে বসে থাকি। বাবা আর মায়ের কাছ থেকেই আমি কৌতূহলী হয়ে ওঠার নেশাটি পেয়েছি। আমার কাছে সবচেয়ে বড় আর গুরুত্বের বিষয় হলো, প্রথমে ভালো মানুষ হওয়া, তারপর পেশাদার ক্রীড়াবিদ হতে হবে। এটা সত্যি অনন্য এক চ্যালেঞ্জ।
বেঁচে থাকার জন্য বন্ধুর বিকল্প নেই। আমি সুযোগ পেলেই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাই, গান গাই। টেনিস নিয়ে পড়ে থাকলেও পরিবারকে সময় দিই। যখন খুব হতাশায় ভুগি, তখন নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিই। নেইলপলিশ হাতে গ্র্যান্ড স্লামের ট্রফিগুলো তোলার স্মৃতি বারবার মনে করে নিজেকে সাহস দিই। আর হতাশার মাত্রা চরমে উঠলে গলা ছেড়ে গান গাই। প্রতিদিন সকালে আমি গান শুনে বাড়ি থেকে বের হই। আমার দুনিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মায়ের হাতের রান্না। মায়ের হাতের বৈচিত্র্যময় রান্নার জন্য বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে আমার। আমি সময় পেলেই বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাই। একই বই কয়েকবার পড়ার বাতিক আছে আমার।
আমাকে কেউ কেউ ‘সুগারপোভা’ নামে ডাকে। অনেক ছোটবেলা থেকে আমি চকলেটের ভক্ত। আমার দাঁতে সব সময় চিনি লেগে থাকত। আমি চাইতাম বড় হয়ে আমি চকলেটের দোকান দেব। বড় হয়ে ব্যবসায়ী হব। সত্যি সত্যি টেনিস খেলার ক্যারিয়ার শেষ করে ব্যবসা করতে নামব।
মানুষের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সে নিজেই। নিজেকে সাফল্যের চূড়ায় দেখতে চাইলে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। যখন যা করো, তা-ই উপভোগ করো। বাড়িতে থাকলে টিভি দেখো, সিনেমা উপভোগ করো। হাসো। কিন্তু যখন কাজ করবে, তখন তাকে উপভোগ করো। নিজের প্রতিভা আর বুদ্ধি দিয়ে কঠিন সব কাজকে আয়ত্তে আনাই সফল ব্যক্তিদের কাজ। নিজের জীবনকে নিজেকেই আকর্ষণীয় করে তুলতে হয়। গণ্ডির মধ্যে না থেকে মাঝেমধ্যে পাগলামি করো। পাগলামি করা শেখো। সামান্য কিছুতেই হাসতে শেখো। হাসিই সবচেয়ে বড় ওষুধ। ঝুঁকি নিতে শেখো। দাঁতে পোকা ধরার ঝুঁকি থাকলেও মাঝেমধ্যে চকলেট খাও। নিজেকে নিয়ে খুশি থাকো!
কিশোর বয়সে যারা টেনিস খেলতে চায়, তাদের জন্য আমার পরামর্শ, লেগে থাকতে হবে। পড়তে হবে, জানতে হবে, খেলতে হবে। সবকিছুর জন্য চাই কঠিন অনুশীলন। ব্যর্থ হলেও লেগে থাকতেই হবে। সফল হলেও লেগে থাকতে হবে।
তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে লিখেছেন
জাহিদ হোসাইন খান

নিজের মতো হও : অপরাহ উইনফ্রে

Untitled-5অপরাহ উইনফ্রে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনী উপস্থাপক। তাঁর বিশ্বজোড়া খ্যাতি স্বপরিচালিত ‘দি অপরাহ উইনফ্রে শো’র জন্য। ১৯৮৬ সালে শুরু হওয়া এই শো শেষ হয় ২০১১-তে। যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে ১৯৫৪ সালের ২৯ জানুয়ারি তাঁর জন্ম। ২০১৩ সালের ৩০ মে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি এই বক্তব্য দেন।ভাবতেই দারুণ লাগছে যে আমি এখন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তোমাদের জীবনে আজকের এই দিনটা একটা বিশেষ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি আর নতুন অধ্যায় শুরুর সময়। আমি খুবই কৃতজ্ঞ হার্ভার্ড থেকে সম্মানজনক ডক্টরেট অর্জন করতে পেরে।আমার টেলিভিশনের ক্যারিয়ার বেশ অপ্রত্যাশিতভাবেই শুরু হয়েছিল। আমি মিস ফায়ার প্রিভেনশন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। তখন আমার বয়স ছিল ১৬ বছর। সেখানে প্রশ্ন-উত্তরের একটা পর্ব ছিল। আমাকে প্রশ্ন করা হলো যে আমি বড় হয়ে কী হতে চাই? ঝটপট উত্তর দিয়ে দিলাম, আমি একজন সাংবাদিক হতে চাই। আমি এমনভাবে মানুষের গল্পগুলোকে অন্যদের কাছে তুলে ধরতে চাই, যাতে তাদের জীবনে তা কিছুটা হলেও ভিন্নতা নিয়ে আসে। উত্তরটা দিয়ে আমি নিজেই বেশ অবাক হলাম। বাহ্! দারুণ তো! আমি সাংবাদিক হতে চাই, আমি পরিবর্তন চাই।আমি যখন টেলিভিশনে কাজ করা শুরু করি, তখন আমার বয়স ১৯ বছর। ১৯৮৬ সালে আমি আমার নিজের টেলিভিশন শো শুরু করি এবং আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি সফল হব। প্রথম দিকে আমি প্রতিযোগিতার কথা ভেবে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমি নিজেই নিজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করি। যতটা সম্ভব কঠোর পরিশ্রম করি। তাই একসময় শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। অপরাহ উইনফ্রে শো ২১ বছর ধরে এক নম্বর অবস্থানে ছিল। এর সাফল্যে আমি খুবই খুশি ছিলাম। কিন্তু বছর খানেক আগে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে এবার নতুন করে কিছু শুরু করতে হবে। তাই আমি এই শো শেষ করে দিয়ে শুরু করলাম অপরাহ উইনফ্রে নেটওয়ার্ক, সংক্ষেপে ওউন। এর বছর খানেক পরে প্রায় সব গণমাধ্যমেই বলা হলো যে আমার এই উদ্যোগ ফ্লপ হয়েছে। কেবল ফ্লপ বললে ভুল হবে, মস্ত বড় রকমের ফ্লপ। সে সময়টাতে একদিন মি. ফস্ট আমাকে বললেন, হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে কিছু বলার জন্য। কিন্তু আমি ভাবছিলাম যে আমি তাদের উদ্দেশে কী বলব, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে সফল গ্র্যাজুয়েট। আমার তো সফলতার মাত্রা কমতে শুরু করেছে। অনেকক্ষণ ধরে ভাবতে লাগলাম। হঠাৎ পুরোনো দিনের একটা তত্ত্বকথা মনে পড়ল, ‘দুঃখ-কষ্ট সব সময় থাকে না, একসময় চলে যায়।’ আমার মনে হলো, হ্যাঁ, আমি অবশ্যই হার্ভার্ডে যাব এবং আমি আমার বিশ্বাসের কথা বলব।কতটা উঁচুতে তুমি উঠতে যাচ্ছ বা উঠতে পারবে, সেটা অনেক ক্ষেত্রেই কোনো গুরুত্ব থাকে না। জীবনের কোনো না কোনো সময় তোমাকে হোঁচট খেতে হবে। তুমি যদি সারাক্ষণ নিজেকে ঠেলতে থাকো ওপরে তোলার জন্য, তুমি কোনো একটা সময় নিচে পড়ে যাবে। তবে যখনই এ রকম একটা অবস্থার মুখোমুখি হবে তখন মনে রেখো, ব্যর্থতার মতো আর কিছু নেই। জীবন যখন আমাদের অন্য দিকে চালানোর চেষ্টা করে, সেটাই ব্যর্থতা। আমরা যখন গর্তে পড়ে যাই, তখন সেটা আমাদের কাছে ব্যর্থতার মতো মনে হয়। তাই গত বছর আমি নিজেই নিজেকে বোঝাতে লাগলাম। গর্তে পড়ে যাওয়ার সময়টাতে সত্যিই ভীষণ খারাপ লাগে। কিছুটা সময় দাও তখন নিজেকে চিন্তা করার জন্য যে তুমি কী হারিয়েছ? তবে অবশ্যই এর সমাধান আছে। তোমার ভুলগুলো থেকে শেখার চেষ্টা করো। কারণ, প্রতিটি অভিজ্ঞতাই তোমাকে শেখাবে এবং তোমার নিজের শক্তি সম্পর্কে, তুমি উপলব্ধি করতে পারবে। পরবর্তী সঠিক পদক্ষেপটি কী হতে পারে, সেটা তোমাকেই খুঁজে বের করতে হবে। নিজের ভেতরকার মূল মন্ত্র ও অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তখন সেটাই বলে দেবে যে কোন পথে তোমাকে যেতে হবে।
একটা ব্যাপার কি চিন্তা করেছ, এখন থেকে সব সময় যখনই তুমি তোমাকে গুগল করবে, তখন এর ফলাফলের মধ্যে থাকবে ‘হার্ভার্ড ২০১৩’। এখনকার সময়ের এই প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে এটা একধরনের কলিং কার্ড। এই দারুণ কলিং কার্ডটি ভবিষ্যতে তোমাদের জন্য চমৎকার বুলেট হিসেবে কাজ করবে, তা তোমরা আইনজীবী, সিনেটর, সিইও, বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অথবা টক শোর উপস্থাপক যা-ই হও না কেন।
আমার মনে হয় যে জীবনের একটা বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এমন একটা জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা, যেখানে তুমি কী হতে চাও, তাও বলবে। তুমি কী অর্জন করেছ, সেটা নয়, বরং তুমি কীভাবে অর্জন করেছ, তোমার জীবনের উদ্দেশ্য—এ সবকিছুর কথা বলবে। কেবল গৎবাঁধা একটা শিরোনাম ও কিছু কথা দিয়ে হবে না।
যখন তুমি পা পিছলে অন্ধকার গর্তে পড়ে যাবে, সে গল্পটাই তোমাকে সে অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে আসবে।
১৯৯৪ সালে আমি একজন ছোট্ট মেয়ের ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। সে মেয়েটি অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করার জন্য চাঁদা আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে নিজে নিজেই হাজার ডলার পর্যন্ত জোগাড় করেছে। তখন আমার মনে হলো, যদি এই নয় বছরের মেয়েটি একটা ঝুড়ি ও বিশাল হূদয় নিয়ে এমন কাজ করতে পারে, তবে আমি কেন পারব না? তখন আমি দর্শকদের অনুরোধ করলাম, তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করতে। ক্ষুদ্র্র ক্ষুদ্র সংগ্রহ একসময় তিন মিলিয়ন ডলার ছড়িয়ে গেল। এই টাকা থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটের একজন করে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করতে শুরু করলাম।
এখন যে ধারণাটা আমার কাছে বেশ স্বচ্ছ, আগে কিন্তু এমনটা ছিল না। আমি আগেও বলেছি যে আমি ১৯ বছর বয়স থেকে টিভির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু ’৯৪ সালের দিকে আমি বুঝতে শুরু করলাম। তাই এমনটা ভাবা ঠিক না যে সবাই একসঙ্গে একই সময়ে সবকিছু বুঝতে পারবে। আমি বুঝতে পেরেছি যে আমি টেলিভিশন দিয়ে ব্যবহার হওয়ার জন্য না, বরং টেলিভিশনকে ব্যবহার করার জন্য এসেছি। এই শক্তিশালী মাধ্যমকে ব্যবহার করতে হবে আমাদের মানবীয় শক্তিগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।
তোমাদের প্রত্যেকের ভেতরকার আলো তখনই চারদিক আলোকিত করবে যখন তোমরা চাইবে। মিসিসিপি গ্রামের এক ছোট্ট মেয়ে হিসেবে আমি তখনই বুঝেছিলাম, নিজের মতো হওয়া অনেক সহজ বারবারা ওয়ালটন হওয়ার চেয়ে।
জীবনে চলার পথে কখনো হতাশা আসতে পারে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে সমস্যা দেখা দিতে পারে, নানা রকম প্রশ্নও আসতে পারে। কিন্তু তোমার মধ্যেই সেই সম্ভাবনা আছে, যা দিয়ে সব রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি তুমি দাঁড়াতে পারবে। সেই সত্যকে যদি উপলব্ধি করতে পারো, তখন তুমি নিজেই বুঝতে পারবে যে কোন কাজটা তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে, তোমাকে সুখী করবে। আর এর মাধ্যমেই পৃথিবীতে তুমি তোমার পদচিহ্ন রাখতে পারবে। অভিনন্দন ২০১৩ সালের গ্র্যাজুয়েটদের।

সূত্র: ওয়েবসাইট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: মারুফা ইসহাক

ক্যারিয়ারে ১৪টি লাল কার্ড পেয়েছি! : জিনেদিন জিদান

৯৯৮ সালে ফিফা বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার জিনেদিন জিদান ফ্রান্সের মার্সেইতে ১৯৭২ সালের ২৩ জুন জন্মগ্রহণ করেন৷ জিদান ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার সম্মাননা লাভ করেছেন তিনবার, একবার ব্যালন ডি’অর৷ ২০০৬ সালে ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর অনবদ্য নৈপুণ্যে ফ্রান্স ফাইনালে ওঠে, জিদান লাভ করেন গোল্ডেন বল।
জিনেদিন জিদানআমার বাবার কাছ থেকেই আমি সবকিছু শিখেছি। তাঁর কাছ থেকে শেখা সবচেয়ে বড় গুণ ছিল, অন্যকে সম্মান দেওয়া। আমার বাবা আলজেরিয়া থেকে ফ্রান্সে আসেন, যা ছিল তাঁর জন্য দুঃস্বপ্ন। নতুন জায়গায় কাজের সন্ধান ও ফ্রান্সের সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ছিল তাঁর জন্য বেশ কঠিন৷ নিজেকে প্রমাণ করার জন্য বাবাকে সব সময় সংগ্রামের মধ্যে থাকতে হতো। বাবা সেই কষ্টের গল্প থেকে আমাকে অনন্য একটা কথা শিখিয়েছিলেন। অন্যদের সম্মান অর্জনের জন্য আপনাকে সব সময় দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হবে। সম্মান আদায় করতে চাইলে অন্যদের সম্মান দিতে হবে। আমার বাবার এই শিক্ষা আমি আমার সন্তানদের দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
ছোটবেলায় আমার মনে হতো, আমি নিয়ম-শৃঙ্খলার জালে বন্দী। আমার শৈশব ছিল বেশ কঠিন, সবকিছু নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ। কিন্তু এখন টের পাই, সেই কঠিন শৈশবের কারণেই আমি এখন জীবনের বড় বড় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারি খুব সহজে। বাবা আমার জন্য ছিলেন বাতিঘর। সেই বাতির আলো থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার পুরো ক্যারিয়ারে প্রয়োগের আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।
যেকোনো পরিবারের জন্য বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বড় ধরনের একটা সুবিধাও বটে। যেসব শিশুর বাবা-মা ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলেন, সে শিশুরা ব্যতিক্রম হয়। তারা অন্যদের চেয়ে বেশি উদার হতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির ছোঁয়ায় তারা অনন্য হয়। আমার সন্তানদের দিকে তাকালে এটা সবাই বুঝতে পারবে।
আমি ছোটবেলায় রাস্তায় ফুটবল খেলতাম; যেখানে আমি খেলতাম সেরাদের সেরার মতো, আমার নিজের মতো। বল নিয়ে সেই দুরন্ত কৈশোর ছিল আমার জন্য স্মরণীয় এক সময়। তখনো আমি জানতাম না, ফুটবল খেলা খুবই মজার একটি কাজ।
জীবনে লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র চাবি হলো সাহস। নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য সাহসী হওয়ার বিকল্প নেই৷ সাহসীরা ব্যর্থ হয় না। কোনো কাজে ব্যর্থ হলে নতুন করে পথ খুঁজে নেয়। মানুষের জীবন অনেকটা বরফে চলা স্লেজ গাড়ির মতো—সব সময় দৌড়ের ওপর থাকে। কখনো কখনো পথ চলতে মনে হবে, আরে, কষ্ট ছাড়াই তো পর্বতের ঢাল বেয়ে নেমে সামনে যাওয়া যায়! কিন্তু সামনে যখন পর্বতের খাড়া অংশ হাজির হবে, তখন সেটা পার হতে আপনার সাহসই হবে আপনার একমাত্র সহায়, একমাত্র উপায়। মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে তার সাহস।
আমার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ১৪টি লাল কার্ডের দেখা পাই, যার মধ্যে ১২টির একমাত্র কারণ ছিল রাগ। আমাকে যখন অন্যরা কথার মাধ্যমে রাগিয়ে তুলতে পেরেছে, তখনই আমি লাল কার্ডের দেখা পাই। এটা নিঃসন্দেহে গর্বের কোনো কারণ নয়। আমি আমার পক্ষে সাফাই গাচ্ছি না। আমার অন্যায় সহ্য করার ক্ষমতা কম, তাই আমি রেগে গিয়ে লাল কার্ড দেখার কাজ করতাম। যদিও আমি মাঠের বাইরের উল্টো। সাধারণ জীবনে আমি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকার চেষ্টা করি। আমি কাউকে কখনোই রাগানোর চেষ্টা করি না। কখনোই কারও সঙ্গে প্রতারণা করি না। সারা জীবন এই সাধনা করে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
আমি যখন নিজে বাবা হই, সেটা ছিল অন্য রকম অভিজ্ঞতা। আমি বড় আঙ্গিকে জীবনকে দেখার সুযোগ পাই। বাবা হওয়া মানেই সন্তানকে পড়াশোনা করার দায়িত্ব নয়। আপনি যা জানেন, জীবন সম্পর্কে যে ধারণা পেয়েছেন, তা আপনার সন্তানকে জানানো আপনার কর্তব্য। আমার জন্য ফুটবল খেলার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদের সময় দেওয়া ছিল বেশ কষ্টকর। কোনোটাই আপনি ছাড়তে পারবেন না। কি ফুটবল, কি সন্তান—দুটোই যে জীবন।
জীবনকে উপভোগ করতে চাইলে আপনার অতীতের বেশ কিছু ঘটনা ভুলে যেতে হবে। সেই ঘটনাগুলোয় আপনি হয়তো ছিলেন অন্যদের মতন; নিজেকে নিয়েই ছিল আপনার সব ব্যস্ততা আর সব ধান্দা। আপনার সব শক্তি অন্য সব সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয় করার মহান দীক্ষা নিতে হবে। সেই দীক্ষা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে না পারলেও চেষ্টা করতে দোষ কী? সেই চেষ্টাটা সব সময়ই জাদুর মতোই অবিশ্বাস্য হয়। যতক্ষণ নিজেকে মানুষের ভালো করার জন্য বদলাতে পারবেন না, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই চেষ্টা মনে হবে অলৌকিক কোনো গল্প।
সূত্র: ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের এস্কোয়ার ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে লিখেছেন জাহিদ হোসাইন খান

চাই সমালোচনা গ্রহণের শক্তি : কুমার সাঙ্গাকারা

কুমার সাঙ্গাকারা সম্প্রতি কলম্বো টেস্ট ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে ইতি টানেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের। তাঁর জন্ম ১৯৭৭ সালের ২৭ অক্টোবর। উইজডেন তাঁকে ২০১১ ও ২০১৫ সালের লিডিং ক্রিকেটার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড তকমা দেয়। ১৩৪ টেস্টে ৩৮টি সেঞ্চুরিসহ সাঙ্গাকারার সংগ্রহ ১২ হাজার ৪০০ রান এবং ৪০৪ ওয়ান ডেতে ২৫টি সেঞ্চুরিসহ সংগ্রহ ১৪ হাজার ২৩৪ রান।


হতে হবে আশাবাদী: বিল গেটস

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের অন্যতম। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক নানা কাজে যুক্ত আছেন।
বিল গেটসঅভিনন্দন, ২০১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷ মেলিন্ডা ও আমি আজ এখানে উপস্থিত হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত৷ তোমাদের এই ক্যাম্পাস অনেক দিক থেকেই অসাধারণ৷ তবে আমাদের যদি একটি শব্দে বলতে হয় স্ট্যানফোর্ডের কোন বিষয়কে আমরা সবচেয়ে ভালোবাসি, তা হবে আশাবাদী মনোভাব৷
১৯৭৫ সালে এই আশা নিয়েই আমি বোস্টনের এক কলেজ ছেড়ে এসে কাজে নেমে পড়েছিলাম৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার পৃথিবীজুড়ে মানুষের জীবনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারবে, পৃথিবীকে আরও অনেক উন্নত করে তুলবে৷ কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে৷ আমরা যা শিখেছি, আজ সেসব তোমাদের বলতে চাই৷ আর জানাতে চাই, কীভাবে আমরা সবাই আরও অনেক মানুষের জন্য অনেক কিছু করতে পারি৷
যখন পল অ্যালেন আর আমি মাইক্রোসফট শুরু করেছিলাম, তখন আমদের লক্ষ্য ছিল কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের ক্ষমতাকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানো৷ ১৯৯৭ সালে আমি ব্যবসার কাজে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যাই৷ একদিন আমি কৌতূহলবশত শহরের একটু দূরে সোয়েটো নামে একটা জায়গায় যাই; এমন জায়গা আমি জীবনে কখনো দেখিনি৷ মাইক্রোসফট সেখানে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কম্পিউটার ও সফটয়্যার বিতরণ করেছিল, যেভাবে আমেরিকায় আমরা কাজ করতাম৷ কিন্তু আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বুঝে গেলাম, এটা আমেরিকা নয়৷ এর আগে আমি দারিদ্র্যকে দেখেছিলাম পরিসংখ্যানে, নিজের চোখে নয়৷ সেখানে গিয়ে আমি দেখলাম, কীভাবে মানুষ বিদ্যুৎ, পানি, টয়লেট ছাড়াই বস্তিতে থাকছে৷ বেশির ভাগের পায়েই কোনো জুতা ছিল না, জুতা পায়ে হাঁটার মতো রাস্তাও ছিল না৷ যে কমিউনিটি সেন্টারে আমরা কম্পিউটার দান করেছিলাম, সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা ছিল না৷ তাই তারা ২০০ ফুট লম্বা তার দিয়ে ডিজেলচালিত একটি জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিয়ে কম্পিউটার চালিয়ে রেখেছিল৷ অবস্থা দেখে আমি ভালোভাবেই বুঝলাম, যে মুহূর্তে আমি আর আমার সঙ্গের লোকজন চলে যাব, তৎক্ষণাৎ এই জেনারেটরও অন্য কোথাও চলে যাবে৷ আর কমিউনিটি সেন্টারের লোকেরাও তাদের জীবনের অন্য হাজার সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত হয়ে পড়বে; সেসব সমস্যা কখনো কম্পিউটার দিয়ে সমাধান করা যায় না৷
গণমাধ্যমের সামনে এসে আমি আগে থেকে তৈরি করে রাখা বক্তৃতা পড়ছিলাম৷ বলছিলাম, ‘সোয়েটো প্রযুক্তির বিভাজনকে ঘুচিয়ে দেওয়ার যাত্রায় একটি মাইলফলকের নাম৷’ কিন্তু মুখে যা-ই বলি, আমি বুঝতে পারছিলাম, এসব কথার কোনো অর্থ নেই৷ 
সোয়েটোতে যাওয়ার আগে আমি ভাবতাম, আমি পৃথিবীর সমস্যা বুঝি, কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো নিয়েই আমার কোনো ধারণা ছিল না৷ আমার এত অসহায় লেগেছিল যে আমি নিজের বিশ্বাসকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলাম, আদৌ কি উদ্ভাবনের মাধ্যমে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব? আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, দ্বিতীয়বার আফ্রিকায় পা দেওয়ার আগে আমাকে বুঝতে হবে দারিদ্র্য আসলে কী৷
অনেক পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আমি একটি যক্ষা হাসপাতাল দেখতে গিয়েছিলাম৷ সেটি একটি বিশেষ ধরনের যক্ষা রোগীদের জন্য, যাদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগেরও কম৷ গোটা হাসপাতাল রোগীদের ভিড়ে উপচে পড়ছে৷ রোগীদের মধ্যে আমি এক নারীর সঙ্গে কথা বললাম, তার বয়স মাত্র ত্রিশের কোঠায়৷ সে আগে এক যক্ষা হাসপাতালে কাজ করত, একদিন তার নিজেরও যক্ষা ধরা পড়ে, সঙ্গে এইডস৷ সে জানত, তার দিন ফুরিয়ে এসেছে৷ আর তার মৃত্যুর পর যখন সেই বিছানা খালি হয়ে যাবে, সেখানে জায়গা করে নিতেও রোগীদের এক বিশাল লাইন অপেক্ষা করে আছে৷ তারা অপেক্ষা করছে সেই দিনের৷
আমি গাড়িতে উঠে সেখানকার এক ডাক্তারকে বললাম, ‘হ্যাঁ, আমি জানি এ ধরনের যক্ষা সারিয়ে তোলা মুশকিল৷ কিন্তু কোনো না কোনো উপায় নিশ্চয়ই আছে৷ এসব মানুষের জন্য আমাদের কিছু করতেই হবে৷’
আমি আজ আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি এ বছর আমরা যক্ষার এক নতুন ধরনের ওষুধের পরীক্ষা করতে যাচ্ছি৷ আগে যেখানে ১৮ মাস ধরে প্রায় দুই হাজার ডলার খরচের পরও শতকরা ৫০ জনের বেশি রোগীকে সুস্থ করা যেত না, এখন সেখানে ছয় মাসের চিকিৎসায় ১০০ ডলারের কম খরচেই শতকরা ৮০ থেকে ৯০ জন রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে৷ এখানেই আশাবাদের শক্তি নিহিত৷ কে বলেছে আমরা দারিদ্র্য কিংবা রোগব্যাধিকে মির্মূল করতে পারব না? আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷
আমি হতাশাবাদীদের দলে নই৷ কিন্তু আমাদের স্বীকার করতে হবে যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে যদি আমরা বৈষম্য দূরীকরণের কাজে না লাগাই, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা এমন সব উদ্ভাবন নিয়ে বসে থাকব, যা পৃথিবীকে আরও বিভক্ত করে ফেলবে৷ উদ্ভাবন দিয়ে কী হবে, যদি তা স্কুলে শিক্ষার মান না বাড়ায়? যদি ম্যালেরিয়া নির্মূল করা না যায়, দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব না হয়, দরিদ্র কৃষকের অন্নের নিশ্চয়তা না থাকে?
তোমরা স্নাতকেরা অসংখ্য উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেবে, পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে৷ তোমাদের বয়সে আমি পৃথিবীকে যতটা চিনতাম, আমি বিশ্বাস করি, আজ তোমরা তার চেয়ে অনেক বেশি জানো৷ আমি যা করেছি, তোমরা তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু করতে পারবে, যদি তোমরা এতে তোমাদের মনপ্রাণ ঢেলে দাও৷ আমি সেই প্রত্যাশায় রইলাম৷
সূত্র: স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। 
১৫ জুন, ২০১৪ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দেওয়া বিল গেটসের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশের অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার

মানুষ চিনতে হবে - ক্রিস গার্ডনার

ক্রিস গার্ডনার একজন আমেরিকান উদ্যোক্তা৷ গৃহহীন অবস্থা থেকে নিজের চেষ্টায় গড়ে তুলেছেন তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গার্ডনার রিচ অ্যান্ড কোম্পানি। তাঁর জীবনী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দ্য পারস্যুট অব হ্যাপিনেস’ বিশ্বব্যাপী তুমুল প্রশংসিত হয়েছে। ২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে’তে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ক্রিস গার্ডনার এই বক্তব্য দেন।
ক্রিস গার্ডনারপ্রথমেই আমি তোমাদের সঙ্গে যে কথাটা ভাগাভাগি করে নিতে চাই, সেটা হলো জীবনে তোমাদের সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটার মোকাবিলা করতে হবে, সেটা হলো মানুষ। সেসব মানুষ, যাদের সঙ্গে বা যাদের জন্য তুমি কাজ করবে, তারা সব সময়ই চাইবে তোমাকে তোমার কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে। আজকের মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে তারা তোমাকে শিখিয়ে দেবে কী বলতে হবে, আর কীভাবেই বা তা বলতে হবে। সেদিন তোমাদের উচিত হবে, বিনয়ের সঙ্গে তাদের প্রত্যাখ্যান করা, এতে তোমাদের ভালো হবে।
আমি আজকের বক্তৃতার জন্য প্রথম পছন্দ ছিলাম না, হয়তো দ্বিতীয় পছন্দও না। কিন্তু সম্ভবত আমিই একমাত্র ব্যক্তি, যে তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছি। একই সঙ্গে আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চড়ে তোমাদের কাছে আসতে পারতাম। তোমাদের আমন্ত্রণ পাওয়ামাত্রই আমি তাতে সাড়া দিয়েছিলাম। তোমাদের অনেকে হয়তো জানো না, যখন ১৪ মাসের একটি শিশুকে ব্যাকপ্যাকে নিয়ে আমি কাজ করতাম৷ আমি ও আমার ছেলে তখন অনেক দিন এই ক্যাম্পাসে ঘুমিয়েছি। সে অবস্থান থেকে উঠে এসে আজকে যখন আমি এই মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছি৷ মনে হচ্ছে, আজকে যেন আমারও সমাবর্তন হচ্ছে। 
আরও অনেক কথা বলার আগে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই সেসব মা-বাবা ও আত্মার আত্মীয়দের, যাঁদের জন্য আজকে তোমরা এখানে। জীবনের বড় সাফল্যগুলো কেউ একা অর্জন করতে পারে না। আজকে তোমাদের প্রত্যেকে এখানে পৌঁছাতে পেরেছ, কেননা চলার পথে তোমাকে কেউ না কেউ সাহায্য করেছিল। আমি বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার মতো সিঙ্গেল মা-বাবাকে। সেসব বাবাকে যাঁরা সন্তানের জন্য মা হয়েছেন এবং সেসব মাকে যাঁরা পালন করেছেন বাবার দায়িত্ব। আমাদের জীবনে সবচেয়ে ভালো কিছু হলো, আমাদের মা-বাবা। কিন্তু তাঁরা ছাড়াও তোমার সাফল্যের পেছনে নিশ্চয় অন্য কোনো ব্যক্তির অনুপ্রেরণা আছে। কোনো একসময়ে কেউ হয়তো তোমাকে বিশ্বাস করেছিল, তোমার মধ্যে অনন্ত সম্ভাবনা দেখেছিল, তোমাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিয়েছিল। সে ব্যক্তি তোমার ছোটবেলার শিক্ষক হতে পারেন, হাইস্কুলের কাউন্সিলর হতে পারেন অথবা হতে পারেন অতিসাধারণ একজন কর্মচারী। তুমি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করো। ই-মেইল কোরো না, মেসেজ পাঠিয়ো না, ফোন কোরো না—তাঁর সামনে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরো, তাঁর সঙ্গে হাসো, তাঁর হাত ধরে কাঁদো; তোমার ভালো লাগবে। আর যাঁরা বলেছিল তোমাকে দিয়ে হবে না, তুমি পারবে না; তাঁদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করো তোমার সম্পর্কে এখন তাঁদের কী অভিমত। 
আমি যখন নিজের ভাবনাগুলোকে সাজিয়ে নিচ্ছিলাম তোমাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য, আমি ভাবছিলাম তোমাদের জায়গায় আমি হলে কী শুনতে চাইতাম। দেশের অর্থনীতির অবস্থা, ওয়াল স্ট্রিটের হালচাল নাকি চাকরির বাজারের খবর? না, এর কোনোটিই আমি জানতে চাইতাম না। আমি জানতে চাইতাম একজন আমেরিকান হিসেবে আমাদের স্বপ্নের কথা, পূর্বপ্রজন্ম যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এ দেশের জন্য কাজ করেছেন তার কথা। আমি জানতে চাইতাম যে আমাদের চেক ইন অ্যাকাউন্টের ব্যালান্সের চেয়ে আমাদের জীবনের ভারসাম্য অধিক জরুরি। জীবনে প্রার্থনার চেয়ে প্রশংসা অনেক বেশি দরকারি। আমি চাইতাম যাতে সমাবর্তন বক্তা আমাদের বলেন, বস্তুর আড়ালে নিজেকে ঢেকে রাখাটা বোকামি৷ কারণ, আমাদের একসময় ফিরে আসতে হবে পরিবার ও পরিজনদের কাছে। আমি তোমাদের জানাতে চাই যে তুমি কী করো, সেটা দিয়ে নিজেকে বিচার কোরো না । নিজের মোট আর্থিক সম্পদ দিয়ে মানবিক শক্তির তুলনা টেনো না। তোমার চারপাশে তুমি অনেক জিনিস দেখতে পাবে, কিন্তু জেনে রেখো সুখী হওয়ার জন্য তোমার এর কোনোটিরই প্রয়োজন নেই। 
তোমাদের জন্য এটাই আমার স্বপ্ন, যার ভিত্তি প্রোথিত আছে অতীতে, এটা বর্ণিত হচ্ছে বর্তমানে কিন্তু এর লক্ষ্য সুদূর অতীত ঘিরে। তোমরা আজকে বৃহৎ এক পৃথিবীতে পা রাখতে যাচ্ছো। তোমরা যা-ই করো না কেন, সব সময়ই সুখের সন্ধান করো। সুখী হও। 
সবাইকে ধন্যবাদ।

সফল হওয়ার পূর্বশর্ত ‘পাগল’ হওয়া - শাহরুখ খান

১৬ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন ভারতীয় অভিনেতা শাহরুখ খান। সেখানেই শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য রেখেছেন তিনি

ডক্টরেট ডিগ্রি আমার জন্য নিশ্চয়ই একটা সম্মানজনক ব্যাপার। আমি যে পেশায় আছি, সেখানে ‘সবিনয়ে’ শব্দটা প্রায়ই ব্যবহার হয়। এ ধরনের ‘কপট তোয়াজ’ আমার ঠিক পছন্দ না, তাই এই শব্দটা আমি ব্যবহার করছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, এ রকম অনুষ্ঠানগুলোই আমাকে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করে। এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে আমি কিছু নির্দেশনাও পেয়েছি। আমাকে বলা হয়েছে ‘সাফল্য’ সম্পর্কে ‘পরামর্শ’ দিতে!জীবন সম্পর্কে আমি যা কিছু শিখেছি, তার বেশির ভাগই চলচ্চিত্র থেকে পাওয়া।আমার ক্যারিয়ারের প্রথম দিককার একটি চলচ্চিত্রের নাম দিওয়ানা (হিন্দিতে দিওয়ানা শব্দটা প্রেম-সংক্রান্ত কিংবা ভালো কিছুর নেশায় ‘পাগলামি’ অর্থে ব্যবহার করা হয়।) এই চলচ্চিত্র থেকে আমি যা শিখেছি, জীবনে সুখী ও সফল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো ‘পাগল’ হওয়া। ভেব না জীবনের ছোট ছোট খ্যাপাটে ভাবনাগুলো তোমার জন্য এতটাই ক্ষতিকর যে সারা জীবন এসব চিন্তাকে চেপে রাখতে হবে। পাগলামিগুলোকে স্বীকার করে নাও, আর সেটাকেই নিজের জীবন গড়তে কাজে লাগাও। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে প্রতিভাবান মানুষ, যাঁরা বিপ্লব করেছেন, যাঁরা উদ্ভাবন করেছেন, আবিষ্কার করেছেন, তাঁরা পেরেছেন কারণ তাঁরা নিজের মানসিক গঠনকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। ‘স্বাভাবিক’ বলে কিছু নেই। এটা কেবল ‘প্রাণহীন’ এর প্রতিশব্দ!দিওয়ানার পরপরই আমি চমৎকার নামে একটা ছবিতে অভিনয় করেছি, যেখানে আমার চরিত্রটা একজন দুর্ভাগা নায়কের। হিন্দিতে ‘চমৎকার’ শব্দের অর্থ সহজ কথায় ‘মিরাকল’ বা কোনো অলৌকিক ঘটনা। এই ছবি থেকে আমার শিক্ষা অনেকটা এমন: ধোঁকায় পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে হঠাৎ একদিন যদি আবিষ্কার কর, তুমি একটা গর্তের ভেতর ঘুমিয়ে আছ, ভয় পেয়ো না। নিশ্চয়ই অদূরেই কোনো ‘মিরাকল’ অপেক্ষা করছে। সেই ‘মিরাকল’ কোনো ভূতও হতে পারে! তোমার কাজ হলো চুপচাপ শুয়ে থাকা। একটু অন্যভাবে বললে, ‘বেঁচে থাকা’ই হলো সেই অলৌকিক ঘটনা যার জন্য তুমি অপেক্ষা করছ। তোমার যা কিছু আছে, সব কাজে লাগাও। মনের জোর, আশপাশের মানুষকে ভালোবাসার ক্ষমতা, সুস্বাস্থ্য, সৌভাগ্য...যত উপহার জীবন তোমাকে দিয়েছে তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার কর। জীবনকে শ্রদ্ধা কর। জীবনের প্রতিটা উপহার, প্রতিটা মুহূর্তকে নষ্ট হতে না দিয়ে কাজে লাগাও। সাফল্যের কোনো মাপকাঠি নেই কিন্তু জীবন তোমাকে যা কিছু দিয়েছে তার পুরোটা কাজে লাগানোর সুযোগ তোমার আছে।তুমি জানো না, ভবিষ্যতে তোমার জন্য কী অপেক্ষা করছে। জানো না ‘আগামীকাল’ বলে কিছু আছে না নেই। কাল হো না হো নামের একটা ছবিতে আমি একেবারে তরুণ বয়সে মারা যাই। এই ছবির মূল কথাও সেটাই। আমি কখনোই আমার দুই বড় সন্তানকে এই ছবিটা শেষ পর্যন্ত দেখতে দিইনি। এমনকি আমরা ছবির অন্য রকম একটা সমাপ্তি তৈরি করেছিলাম শুধু ওদের জন্য। কিন্তু এখন ওরা তোমাদের মতো বড় হয়েছে। শিগগিরই নিজের জীবনে নিজের মতো করে একটা চমৎকার যাত্রা শুরু করবে। আমি ওদের এই রোমাঞ্চ থেকে আগলে রাখতে চাই না। বরং আমার অভিজ্ঞতা আর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে যতটা সম্ভব ওদের বলতে চাই, এই সময়টাতেই যা পার করে নাও।
মুহূর্তে বাঁচ। আজকে বাঁচ। চঞ্চল চোখে তুমি হয়তো দেখতে পাচ্ছ না। কিন্তু এটাই কাজে লাগানোর শ্রেষ্ঠ সময়। আমি তোমাদের সবাইকে শুধু এটুকুই বোঝাতে চাই, এই সময়টা তোমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পড়ালেখা কর। কষ্ট কর। নিয়ম দিয়ে নিজেকে বেঁধে রেখ না। কখনো কাউকে দুঃখ দিয়ো না...আর কখনোই অন্যের স্বপ্নে বেঁচ না। যতবারই ভুল কর না কেন, হেরে যাও না কেন, যতই মনে হোক না কেন সারা দুনিয়া তোমার বিপক্ষে, একটা কথা মনে রেখ—বব মার্লের ভাষায় যদি বলি, ‘...অ্যাট দ্য অ্যান্ড এভরিথিংস গনা বি অলরাইট’ (দিন শেষে সব ঠিক হয়ে যাবে)। আর আমার ভাষায় যদি বলি, জীবনটা হিন্দি সিনেমার মতো। শেষে গিয়ে সব ঠিক হয়ে যায়। আর যদি ঠিক না-ও হয়, তাহলে বুঝতে হবে ‘শেষ’ এখনো আসেনি। কারণ ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায় মেরি দোস্ত!’ (কাহিনি এখনো শেষ হয়ে যায়নি বন্ধু) এটাকেই জীবনের একমাত্র সত্যি হিসেবে মেনে নাও।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: মারুফ ইসলাম

Friday, March 30, 2012

গ্রিক নার্সিসাস থেকে নার্সিসিজম

গ্রিক পুরাণের বহুল আলোচিত অনেক চরিত্রের মধ্যে অন্যতম নাম নার্সিসাস। তিনি বিখ্যাত ছিলেন তাঁর সৌন্দর্যের জন্য। কিন্তু ওই সৌন্দর্য তাঁর জীবনহানিরও কারণ হয়েছিল। পানিতে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে তিনি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে নিজের চোখ অন্যদিকে ফেরানোর সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং এই অবস্থাতেই মারা যান তিনি। এই নার্সিসাস থেকেই নার্সিসিজমের ধারণা এসেছে, যা মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মবাদ, আত্মগর্ব, আত্মশ্লাঘার বৈশিষ্ট্য ইঙ্গিত করে। নার্সিসিজম বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। কখনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সমস্যা হিসেবে, কখনো বা মানসিক অসুস্থতা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। সংগৃহীত

Thursday, March 29, 2012

গল্প- সৎ , জ্ঞানী আর রাজনীতিবিদ

স্বাধীনতার পরের কথা। এক দেশপ্রেমিক ভালো মানুষের স্বপ্নে দেখা দিলেন এক দরবেশ। দরবেশ তাঁকে বললেন, ‘যুদ্ধ করে নতুন দেশ পেয়েছ। বলো, দেশের জন্য তুমি কী চাও? যা চাইবে তা পাবে।’ ভালো মানুষ তো ভালোই মানুষ। এক পলক ভেবে তিনি বললেন, ‘হে দয়াল দরবেশ, আমি চাই যে আমার দেশের সব মানুষ সৎ হবে, জ্ঞানী হবে আর রাজনীতি করবে।’ কথা শুনে দরবেশের কপালে চিন্তার রেখা ফুটল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বললেন, ‘বড় কঠিন দাবি রে! যাক, আমি বর দিলাম, তোর দেশের মানুষের মধ্যে ওই তিনটি গুণই থাকবে, তবে কেউই একসঙ্গে দুটির বেশি গুণ পাবে না।’ তখন থেকে দেশে সৎ ও জ্ঞানী মানুষের অভাব নেই, অভাব নেই রাজনীতির লোকেরও। কিন্তু মুশকিল হলো, রাজনীতির সৎ মানুষটি জ্ঞানী হন না, সৎ ও জ্ঞানী যিনি তিনি রাজনীতিতে ব্যর্থ হন। আর যিনি রাজনীতিতে সফল তিনি জ্ঞানী হলে সৎ হন না আর সৎ হলে জ্ঞানী থাকেন না। সংগৃহীত: রাজনীতিবিদেরা যা পারেন না প্রথম আলোতে ফারুক ওয়াসিফ এর কলাম

Tuesday, March 20, 2012

ডার্টি পিকচার ও আমাদের গণতন্ত্র-মো. জাকির হোসেন

প্রথম আলো ধেকে সংগৃহীত: বলিউডের আলোড়ন সৃষ্টিকারী হিন্দি ছবি ডার্টি পিকচার। দুই প্রজন্মের দুই তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী নাসিরুদ্দিন শাহ ও বিদ্যা বালান ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটি আমার দেখা হয়নি। আকাশ টিভির সৌজন্যে ছবিটির কিছু দৃশ্য এবং দুটো গানের ভিডিওচিত্র দেখেছি। তাতেই বোঝা হয়ে গেছে, কেন ছবিটির নাম ডার্টি পিকচার। নানা কারণে ছবিটি আলোচিত-সমালোচিত। ডার্টি পিকচার-এর একটি গান ‘ও লা লা, ও লা লা’ এখন বেশ হিট। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে ক্লাসে আলোচনার সময় আমি ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞাসা করি, ডার্টি পিকচার নিয়ে আলোচনায় তোমরা যে সময় ব্যয় করো, ততটুকু সময় কি বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে ব্যয় করো? উত্তর আসে, না। আমার প্রশ্ন, কেন? ছাত্রছাত্রীরা সমস্বরে জবার দেয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ডার্টি পিকচার-এর চেয়েও ডার্টিয়ার। উত্তর শুনে নড়েচড়ে উঠি। উৎসাহ বোধ করি ব্যাখ্যা শোনার জন্য। তাদের জবাব, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ক্ষমতার পালাবদলের (জ্বলন্ত উনুন থেকে ফুটন্ত কড়াইয়ে) অর্থাৎ যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার ফাঁদে আটকা পড়েছে। এখানে দলীয় আদর্শ, নীতিনৈতিকতা, জনগণের চাওয়া মুখ্য বিষয় নয়। আর তাই ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হলেও সেই থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনকে সূক্ষ্ম, স্থূল কিংবা ডিজিটাল কারচুপি আখ্যা দিয়ে বিরোধী দল বছরের পর বছর সংসদে অনুপস্থিত থেকেছে। জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ না করলেও জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় সব ভাতা গ্রহণ করেছে। বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি করেছে। বিদেশ ভ্রমণ করেছে। এটি কি শ্লীল গণতন্ত্রচর্চা হতে পারে? আর বিরোধী দল যখন উপস্থিত হয়েছে তখন সরকারি ও বিরোধী দলের অনেক সংসদ সদস্যের মধ্যে যে অশ্রাব্য বাক্যবিনিময় হয়েছে, তাকে কি ডার্টিয়ার ডেমোক্রেসি বলা অন্যায় হবে? দীর্ঘদিন পর রোববার বিরোধী দল সংসদে ফিরে এসেছে। বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব দিতে গিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা শুনে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। সম্মানিত(!) সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘তিনি মইন উ আহমেদের কোল ছাড়া আর কোথায় কোথায় বসেছেন, তা তদন্ত করে দেখতে হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্কে বলেছেন, ‘টেলিভিশনে তাঁর বিশ্রী হাসি দেখে ভয়ে মানুষ টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়।’ আইন প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাংসদ বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাঁর কাপড়চোপড় খুলে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশিদের নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুইজন মন্ত্রীর লুঙ্গি তুলে ভারতের মহিলা পুলিশ দিয়ে পেটানো হবে।’ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ যখন সুন্দর কাপড় পরা পরিপাটি গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখে, তখন সাংসদ রেহেনা আক্তার রানু মন্ত্রীদের কাপড় খোলার হুমকি দিয়ে কি আমাদের গণতন্ত্রের কাপড় খুলে ফেলেননি? ডার্টি পিকচার-এর ‘ও লা লা, ও লা লা’ গানটি যেমন পরিবারের সব সদস্য নিয়ে দেখার মতো নয়, একজন মহিলা সাংসদের গণতন্ত্রের কাপড় খোলা বক্তব্যও কি পরিবারের সব সদস্য নিয়ে শোনার মতো! গণতন্ত্র বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন তৈরির কারখানা হলো পার্লামেন্ট। অক্সিজেন তৈরির কারখানাকে অকার্যকর রেখে কি গণতন্ত্রচর্চা সম্ভব? ছাত্রছাত্রীদের কথা শুনে আমার একটা গল্প মনে পড়ে যায়। এক আমেরিকানের চায়নিজ বন্ধু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। আমেরিকান বন্ধু চায়নিজ বন্ধুকে হাসপাতালে দেখতে যায়। হাসপাতালে শয্যার পাশে আমেরিকান বন্ধু দাঁড়ানোর পর চায়নিজ বন্ধু ‘নি চাদোয়ান লা উয়াদা ইয়াংজি গুয়ান’ বলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আমেরিকান বন্ধু চায়নিজ ভাষা জানত না। মৃত্যুর আগে বন্ধু তাকে কী বলেছে, তা জানার জন্য আমেরিকান বন্ধু আরেকজন চায়নিজের শরণাপন্ন হলে চায়নিজ ব্যক্তিটি তাকে জানান, এর অর্থ হলো, ‘যে অক্সিজেন পাইপ দিয়ে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা হয়েছে, তুমি তার ওপর দাঁড়িয়ে আছ, আমি মরে যাচ্ছি। গণতন্ত্রের পরম বন্ধু আমাদের রাজনীতিবিদেরাও কি জনগণের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়ে গণতন্ত্রের অক্সিজেন পাইপের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন? ছাত্রছাত্রীদের নির্মোহ বিশ্লেষণ আমাকে আরও আগ্রহী করে তোলে। আমি আরও শুনতে চাই। তারা বলে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির সমার্থক হয়ে উঠেছে। ব্যক্তি যখন গণতন্ত্রের সমান হয়ে ওঠে, তখন আর তা গণতন্ত্র থাকে না। শাসনব্যবস্থা তখন শ্লীলতার সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং তার কাছে আইনের শাসন পরাজিত হয়। মানবাধিকার অপসৃত হয়। জনগণের স্বপ্নের পশ্চাদপসরণ ঘটে। ন্যায়বিচার নিজেই অবিচারের শিকার হয়ে পড়ে। ডার্টিয়ার ডেমোক্রেসি সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের বিশ্লেষণ শেষ হয় না। তাদের ক্ষোভমিশ্রিত বিশ্লেষণ চলতে থাকে। এক ছাত্র দাঁড়িয়ে বলে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পলিসির মাধ্যমে আমাদের যেভাবে বিভক্ত করেছিল, আমাদের ডেমোক্রেসি তার চেয়ে বহুগুণে এবং বহুমাত্রিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। পিয়ন থেকে শুরু করে অফিসের বড় কর্তা আজ ভয়াবহ রাজনৈতিক বিভক্তির শিকার। সরকারি চাকরিজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, আমলা, শিক্ষকের নামের আগে আজকাল আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থী কিংবা বামপন্থী যোগ করে পরিচিত করা হয়। নেতা-নেত্রীদের লাগামহীন অশোভন ও আক্রমণাত্মক বক্তৃতা-বিবৃতি নাগরিকদের ক্রমাগতভাবে হিংসা, বিদ্বেষ ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এরূপ হিংসা-বিদ্বেষ আর প্রতিশোধের গণতন্ত্র ডার্টিয়ার নয় কি? নাগরিকদের বিভক্তির কথা মনে পড়লেই একটি ঘটনা আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি যে ভবনে থাকি, সেই ভবনের নিচতলায় একদিন অত্যন্ত অল্প বয়সের দুটো শিশু, যাদের বয়স বড়জোর পাঁচ বছর হবে, তাদের কথোপকথন শুনে থমকে দাঁড়াই। এদের একজন আরেকজনকে বলছিল, আমি তোমার সঙ্গে খেলব না। কারণ, তোমরা অমুক দল করো। শিশুটি আমাদের দুটো বড় দলের একটির নাম উচ্চারণ করে তার সমবয়সীর সঙ্গে খেলতে অস্বীকার করে। ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে আমার কেবলই মনে হতে থাকে, তরুণ প্রজন্মের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের ডার্টিয়ার ডেমোক্রেসি কি তাহলে ডার্টিয়েস্ট কিছু নিয়ে অপেক্ষা করছে? কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো সম্পাদকীয়-২০ মার্চ ২০১২ মো. জাকির হোসেন আইন অনুষদের ডিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। zhossain@justice.com

Tuesday, January 24, 2012

মাহমুদ আহমেদিনেজাদের জীবনযাত্রা




মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। ইরানের প্রেসিডেন্ট। আধুনিক বিশ্বের সবচাইতে ক্ষমতাশীল প্রেসিড...েন্টদের একজন। তার বাবা একজন সামান্য কামার। সৎ,সাহসী,পরিশ্রমী,দূরদর্শী নেতা হিসেবে সারা বিশ্বেই আহমেদিনেজাদ আজ সমাদৃত। পেশায় তিনি ছিলেন একজন পি এইচ ডি ধারী তুখোড় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তেহরান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির অধ্যাপক, ছিলেন তেহরানের মেয়র। ১৯৭৯ সালে ইরানের যে হাজার হাজার ছাত্র আমেরিকান দূতাবাস আক্রমণ করে ৫৩ জন কূটনীতিক কে বন্দী করে আহমেদিনেজাদ ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। তার জীবনযাপন ও চলাফেরার মধ্যে আমরা খুঁজে পাই আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশিত পথের স্পষ্ট ছাপ। একটি উন্নত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তিনি যে সৎ জীবন যাপন করেন সেটা থেকে আমাদের নেতাকর্মীরা অনেক কিছু শিখতে পারে। তার সেই বিচিত্র জীবনের কিছু চিত্র নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করব.........।।

(১) জ্ঞান,বিজ্ঞান,শিক্ষা,প্রযুক্তি,শিল্প-সংস্কৃতি,গবেষণা,অর্থনীতি সব দিক থেকে ইরান আজ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর তালিকায় নিজের স্থান করে নিয়েছে। দেশের উন্নয়নে তার দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ইরানকে আজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।

(২) অথচ আপনি ভাবলে অবাক হবেন ,এই ক্ষমতাশালী লোকটি একসময় তেহরানের মেয়র থাকাকালে নিজ হাতে রাস্তায় ঝাড়ু দিতেন।

(৩)আপনি ভাবলে অবাক হবেন, এই লোকটি আজো দুই রুমের একটা ছোট্ট বাড়িতে থাকেন।তার বাসায় দুই একটা কাঠের চেয়ার ছাড়া আরা কোন আসবাবপত্র নেই।

(৪) আপনি ভাবলে অবাক হবেন, এই লোকটি আজো ঘরের ফ্লোরে একটা পুরনো কার্পেটের উপর বালিশ বিছিয়ে তারপর ঘুমান। তার বাসায় কোন শোয়ার খাট নেই।

(৫)আপনি ভাবলে অবাক হবেন, এই লোকটি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তার ছেলে মাহাদির বিয়েতে মাত্র ৪৫ জন অতিথিকে(২৫ জন নারী এবং ২০ জন পুরুষ)নিমন্ত্রন করেন। তাকে যখন NBC নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক এর কারন জিজ্ঞাসা করেন তখন তিনি অত্যন্ত হাসিমুখে বিনয়ের সাথে বলেন, এর চাইতে বেশি মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। ভাবুন, পৃথিবীর একটা উন্নত দেশের প্রেসিডেন্ট বলছে এই কথা। তাও সেই বিয়েতে কোন ভোজের ব্যাবস্থা ছিলনা। প্রত্যেক অতিথি কে একটি কমলা,একটি কলা,একটি আপেল আর ছোট্ট এক টুকরো কেক দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছিল।

(৬) আপনি ভাবলে অবাক হবেন, এই লোকটি সবার আগে সকাল ৭ টায় অফিসে যান।

(৭) আপনি ভাবলে অবাক হবেন, এই লোকটি আজো সকালে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিজের স্ত্রীর হাতের বানানো সকালের ব্রেকফাস্ট এবং দুপুরের খাবার একটা ছোট্ট কালো ব্যাগে করে সাথে নিয়ে যান। অফিসের কার্পেটের ফ্লোরে বসে তৃপ্তির সাথে সবার সামনে তিনি তার খাবার খান।

(৮) দিনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় তিনি বাসার দারোয়ান, পথচারী ও সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে তাদের সুখ দুঃখ শেয়ার করেন।

(৯)তিনি যখনি কোন মন্ত্রীকে তার অফিসে ডাকেন তাকে একটা মন্ত্রণালয় চালানোর একটা দিকনির্দেশনা দিয়ে দেন। পাশাপাশি তিনি তাদের বলে দেন,রাস্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাক্তিগত হিসাব নিকাশ ও তাদের নিকট আত্নীয় স্বজনের কার্যকলাপ কঠিনভাবে মনিটর করা হচ্ছে।

(১০)ভাবতে অবাক লাগে তার ব্যাক্তিগত সম্পত্তি বলতে তেহরানের বস্তিতে অবস্থিত ছোট্ট একটি বাড়ি,যা ৪০ বছর আগে তিনি তার বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। বাড়িটির নাম Peugeot 504. আপনি শুনলে অবাক হবেন তার ব্যাংক একাউন্টে বেতনের জমানো কিছু টাকা ছাড়া আর কিছু নেই। তেহরান ইউনিভার্সিটি তে তার বেতন মাত্র ২৫০ ইউ এস ডলার।

(11) আপনি শুনলে অবাক হবেন, তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র থেকে কোন টাকা নেন না। তিনি ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত বেতনের টাকা দিয়ে চলেন।BBC সাংবাদিক তাকে এই নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “সব সম্পত্তি হল রাষ্ট্রের আর তার কাজ হল সেগুলো পাহারা দেওয়া”।

(১২)আপনি শুনলে অবাক হবেন, এই লোকটি এত বেশি পরিশ্রম করেন যে,তিনি সারাদিন ৩ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সময় পান না। তিনি প্রতিদিন সকাল ৫ টায় ফযরের নামায পড়ে কাজ শুরু করেন আর রাত ২ টায় ব্যাক্তিগত স্টাডি ও এশার নামায পড়ে ঘুমাতে যান।

(১৩)আপনি শুনলে অবাক হবেন, এই লোকটি কখনও নামায বাদ দেন না। নামাযের সময় হলে রাস্তায় ছোট্ট কাপড় বিছিয়ে নামায আদায় করেন। রাষ্ট্রীয় সব বড় বড় নামাযের জামাতে তিনি সব সময় পিছনের সারিতে সাধারন মানুষের সাথে বসতে ভালবাসেন।


সংগৃহীত

Friday, May 13, 2011

১ম সংস্করণ: তেল ও ভাবনাবিদ

ভাবনাবিদের কাজ কিন্তু খুব বেশী না; সারাদিন সে ভেবেই যাচ্ছে। কারণ তার কাজই ঐটা। সে তার সব চাওয়া পাওয়া তার ভাবনার মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত করে। আপনি হয়ত ভাবছেন, কি না কাজ করছে সে!!!! কিন্তু আপনি অবাক হবেন, আপনার নিউরন ঠিক এই মহূর্তে ভাবনাবিদের ভাবনার পিছনেই ছুটে চলেছে।

কাল রাত ১২ টার পর থেকে জ্বালানী তেল ও গ্যাসের মূল্যটা সরকার সময়েরই দাবীতে বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক; প্রয়োজন হলে না বাড়িয়ে উপায় নেই। আমরা, আমরা জনতা সেটা মেনে নিয়েছি। কালকের খবরটা দেখেই ধারণা হয়েছিল বাস ভাড়া বাড়বে কিছুটা। কিন্তি সকাল বেলা শত ব্যস্ততার মাঝখানে মনে করতে পারেনি। সম্ভিত ফিরল যখন বাস স্ট্যান্ড পৌছালাম। কাউন্টারে যেতেই প্রশ্ন, কোথায় যাবেন? গন্তব্য বলা মাত্র, ১২ টাকা নিয়ে ৮ টাকার একটি টিকিট ধরিয়ে দিয়ে বলল, ভাড়া বেড়েছে। ব্যস্ত ছিলাম কথা নাবাড়িয়ে চলে দৌড়ে গিয়ে বাসে উঠলাম।

আবার আমার কাজ শুরু; বসে বসে ভেবে ভেবে জ্যামে সময় কাটানো।ভাবনাবিদ।ঢাকা শহরের অধিকাংশ মাুষ হল নিন্ম উচ্চবিত্ত(আধুনিক নাম মধ্যবিত্ত);। এদের টাকা এরা গুনে গুনে ব্যায় করে মোটামুটি সংসার চালিয়ে দেয়।তাদের গৃহকর্তার যদি প্রতিদিন বাস ভাড়া ১০+১০ =২০টাকা হয় অফিস আপ ডাউনে, আার বাস ভাড়া যদি ৫০% বাড়ানো হয়; মাসিক খরচ বাড়ল আরো ৩০০ টাকা। খুব একটা বেশী না, ঠিক হয়ে যাবে। আর কোন কথা নয়, মুখ বুঝে নৈমিত্তিক আপ আর ডাইন। মধ্যপন্হীর সন্তান ভিড়ে যায় না; টিভিতে বসে নিউজ দেখে লিবিয়ায় আন্দোলন কারীরা কোলের শিশুকে কাধে তুলে নিয়ে, অবস্হান ধর্মঘট করছে; অনলাইনে যুব সম্প্রদায় নিশ্চুপ আন্দোলন গড়ে তুলছে।আর রাতে পাশের ঘরে যেয়ে ৫১২কেবিপিএস এর ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায় পর্ণোগ্রাফির নগ্ন ছবির আকর্ষনীয় অংশে। তারা টের পাচ্ছে না, তাদের এই উদাসীনতার সুযোগে তাদেরই নগ্ন করতে বসে আছে দূর্নীতির কালো থাবা।
প্রশ্ন করতে পারেন, কিসের মধ্যে কি পান্তা ভাতে ঘি!!!
দূর্ণীতি না হলে, বাস পরিবহন সমিতি যে প্রতি যাত্রীর মাথার উপর থেকে একলিটার তেলের সংযোজিত মূল্য চাপিয়ে দিচ্ছে সেটা দেঝবার কেউ নাই। মূল্য বেড়েছে কতইবা, ভাড়া বেড়েছে ৫০%। একটা বিষয়ে সব গাড়ীয়ই ঐক্যমত হতে পেরেছে, এটা দেখলেও ভালো লাগে। তেলের দাম বাড়ুক অথবা গ্যাসের দাম, গাড়ী গুলো দুটোতেই বাড়ায়।
ভেবে ভেবে কি আর হবে! আমার কাজ ভাবা, যার যেটা কাজ তার মধ্যে থেকে প্রতিবাদ করি, আসুন। এখনও সময় আছে। ওদের দু:সাহসে আমার মত সবারই শংকিত হওয়া উচিত। এই ওরা কোন রাজনৈতিক দল না, ওরা শয়তান, ওরাই আমাদের কাছে রাজাকার।

Sunday, March 6, 2011

প্রথম আলোতে সাকিবের কলাম ও কিছু কথা

বিসিবি'র সম্ভবত শিক্ষাগ্রহন করার বিষয়ে এলার্জী আছে। নতুবা কি করে, একজন প্লেয়ার চলমান বিশ্বকাপে অংশগ্রহন করার পাশাপশি পত্রিকাতে কলাম লিখবার অনুমতি পায়। পূর্বেও দেখা গেছে , বিভিন্ন সময়ে একই টিমের বিভিন্ন প্লেয়ার বিভিন্ন মতামত প্রদান করে বিভেদের জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করবার জন্য বোর্ড গুলো প্লেয়ারদের বাক স্বাধীনতার উপর আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রণ। ফলাফল ও পেয়েছে, কোন লাভ না হলেও নিদেন পক্ষে তাতে কোন ক্ষতি হয়নি। ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও তাদের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক পদক্ষেপের পাশাপাশি প্লেয়ারদের ইচ্ছা খুশীমতকথা বলা বন্ধ করেছে বহুবার, পাশাপাশি তাদের কথা মডারেট করবার জন্য রেখেছে একজন মুখপাত্র। কিন্তু আমরা পারি নাই।
নিজের দলের পরাজয় বিশ্লেষন ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ উপেক্ষা করে, আমাদের ষোল কোটি বাঙ্গালীর দলপতি কলাম লিখতে বসেছে প্রত্যুত্তর দেয়ার আশায়। জানি না ক্রিকেট বোর্ড এখন পর্যন্ত তাকে কোন সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে কিনা, না পাঠালে বিলম্ব হয়ে যাচ্ছে। নতুবা সাকিব হয়ত সারা দিনরাত ধরে কলাম লেখার উপরই থাকবে আর মাঠে যেয়ে বিশ্রাম নেবে, যা কারোর জন্যই সুখকর কিছু নয়।
তিনি তার কলামে অনেক কিছুই লিখেছে, দর্শক দের ক্রিকেট জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। যা দিয়ে উনি হয়ত নিজেকেই ছোট করেছে। তিনি তো এই সকল দর্শক ও অনুরাগীদেরই নেতা এটা ভুলে গেলে হবে কি করে‍।কোন একটি ম্যাচে ভালো করলেই তাদের জন্য তৈরী থাকে প্লট, ফ্লাট, গাড়ী, টাকা। সেগুলো গ্রহন করতে তাদের কোন প্রকার পিছুটান থাকে না। প্রাকটিস বাদ দিয়ে ধর্ণা ধরে থাকে কখন সে গুলো বাস্তবায়িত হওয়ার পর গোগ্রাসে গিলবে। তো বর্তমানের গুলা দিলে সেগুলা গ্রহন করতে এত কষ্ট কেন। ধ‍ৈর‍্য ও সহ্য না থাকলে আপনি কিসের নেতা।
সাকিব কে দিয়ে প্রথম আলোর কলাম লেখানোর সিদ্বান্ত টি ভালো। কিন্তু বিশ্বকাপের মধ্যে সে পূর্ণ সময়ের জন্য বিসিবির কর্মী; তাকে দিয়ে কিভাবে খন্ডকালীন কলাম লেখানো হয় এটা আমার মত সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়।
ক্রিকেট বোর্ড কয়েকদিন আগে প্লেয়ারদের উন্নয়নের জন্য একজন মানসিক অবস্থা একজন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। আমার মনে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে প্লেয়ারদের পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন দেখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত; ডাক্তার বাবুকে মনে রাখতে হবে বাঙালী খুবই আবেগপ্রবন, কোন মতেই তারা আবেগ চেপে রাখতে পারে না।
যেমনটি ঘটেছে আমার বেলাতে। আবেগ সামলাতে না পেরে অফিসের কাজ বাদ দিয়ে এই কলাম লিখতে বসেছি।

Friday, March 4, 2011

ইতিহাসের সাদৃশ্যতা বাংলাদেশ ক্রিকেটে

বাংলাদেশ আজকে ওয়েস্টইন্ডিজের কাছে খুব সুন্দর ভাবে পরাজিত হয়েছে। মনটা খুব খারাপ লাগছে সবারই মতন। আমার এই লেখাটা আজকের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষন করবার জন্য নয়, শুধুমাত্র কিছু পূর্বেকার ঘটে যাওয়া কলক্ষণের সাদৃশ্য তুলে ধরাটাই মূল লক্ষ্য যা অনেকদিন ধরেই মনে উঁকি দেওয়া স্বত্ত্বেও লেখা হচ্ছিল না।

সৌরভ কে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক বলা হয়, কিন্তু তার পরেও আন্তজার্তিক ক্রিকেট থেকে অবসরের আগে সে তার যোগ্য সম্মান কতটুকু পেয়েছে সেটা কারোর জানবার বাকী নেই। আর তার সেই দুঃসময়ের পিছনে যার হাত ছিল সে ছিল তারই সুবিধা ভোগী কোচ চ্যাপেল মহাশয়। ভারত যখন দলের জন্য কোচ নিয়ে চিন্তিত টম মুডি ও চ্যাপেলের ইন্টারভিউ সম্পন্ন, শুধু মাত্র অধিনায়কের মতামতের অপেক্ষায়। চ্যাপেল ভুল করেনি, জায়গাটা চিনতে। সৌরভকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বারংবার ফোন আর মেইল করে অনুরোধ করেছিল মতামত টা যেন তার পক্ষে যায় তার জন্য। চ্যাপেলের সাথে তার বোঝাপড়াটা একটু বেশী ছিল কারণ অনেক সময়ই সে চ্যাপেলের কাছ থেকে অনেক টিপস পেয়েছিল। আর সেই সুবাধেই সে ভেবেছিল ভবিষ্যৎ জুটিটা ভালো জমবে; কিন্তু জমে নাই। কোচ হিসাবে নিয়োগ হবার পর, সৌরভের সামনে দাড়াতে একটু অস্বস্তি লাগতো বইকি। দেখা দিল অহং (ইগোর) সমস্যা চরম আকারে। চ্যাপেল শুধুই সময়ের অপেক্ষায়।
সময় আসতেও বিলম্ব হয়নি। শরদ পাওয়ার,অভিজ্ঞ ক্রিকেট সাংগঠনিক না হওয়া স্বত্বেও কংগ্রেস এর সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠনের মূল অভিস্বন্ধি ছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান হওয়া। কেন্দ্রীয় ভাবে সব প্রাদেশিক বোর্ড গুলো নোটিশ পেয়েছিল শরদ কে ভোট না দিলে সকল সাহায্য বন্ধ সহ কোন প্লেয়ারকে জাতীয় দলে নেওয়া হবে না। বেশী কিছু করা লাগেনি, তাতেই ডালমিয়া শেষ। আর বোর্ডের যে একটা ঐতিহাসিক পরিবর্তন হতে চলেছে সেটা বোঝানোর জন্যই ঐতিহাসিক সিদ্বান্ত নেওয়া হয় ডালমিয়ার প্রদেশ পশ্চিমব্ঙ্গের সৌরভ গাঙ্গুলীকে বাদ দিয়ে। সবাই ভেবেছিল হয়ত অধিনায়কত্ত্ব কেড়ে নেবে, কিন্তু না সরাসরি দল থেকে বাদ। অনেকেই খুশী একসাথে, শরদ, চ্যাপেল, রাহুল। আর শরদ এটার জন্য সহযোগীতা পেয়েছিল কিরণমোরে নামক এক নির্বাচকের,আন্তজার্তিক ক্রিকেটে যার মোট রান সৌরভের মোট ছক্কার থেকেও কম। রাহুল ও পরে প্রমান করেছিল- সে ভালো সহঅধিনায়ক হতে পারে কিন্তু অধিনায়ক নয়।হায়রে রাজনীতি আর হায়রে নির্বাচক।
সৌরভ আবার এসেছিল জাতীয় দলে, কারোর সুপারিশে নয় নিজের যোগ্যতায়। কেউ তাকে দয়া করেনি, সে দয়ার জন্যও বসে থাকে নি।

এত সময় অন্য দেশ নিয়ে হল। মনে হতে পারে ইতিহাস দিয়ে কি হবে; মানুষ সমাধান খোঁজে ইতিহাস দিয়ে। এবার আমাদের দেশের দিকে তাকাই। দল ঘোষনাটা হল বিতর্ক নিয়ে। একজন উম্মাদও বোঝে মাশরাফী কে খেলানোর ইচ্ছা থাকলে তাকে দলের অন্তভুক্তি করাটা কোন সমস্যা হত না। কিন্তু না, চ্যাপেলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সিডন্স। ইগো একটু রয়েছে, কে বড়- ক্যাপ্টেন না কি কোচ। তারা কেউই বোঝে না, দুটার ভূমিকা দুরকম। এটাও পরিস্কার নয়, কি নিয়ে তাদের এত মত বিরোধ।
সিডন্স কোচ হিসাবে অসফল নয়, মানে এটাও নয় সে খুব বেশী সফল। বর আসরে খেলা আর ছোট আসরের খেলা এক রমকম কখনও নয়। কোচের নিজের বিশ্বকাপের খেলা দূরের কথা আন্তজার্তিক ক্রিকেট রেকর্ড বিশ্লেষন করার সময় হয়েছে এ ব্যাপারে সবাই আমার সাথে এক মত হবেন আশাকরি। সিডন্স যে সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে সেটা সম্ভব হয়েছে কোচ দের সহযোগীতা পাবার জন্য। একজন প্লেয়ারের গুনগত মান আরেকজন গুনী প্লেয়ারই ভালো বলতে পারেন। কোচ নির্বাচন প্লেয়ার নির্বাচনের চেয়েও যে একটা বড় বিষয় সেটা আমাদের ভাবার সময় এসেছে। তাই শুধু মাত্র প্লেয়ার নির্বাচনের দিকে অনুরাগীদের নজর দিলে হবে না, নজর দিতে হবে নির্বাচকদের নির্বাচনের দিকে, সেখানে কতটা ভালো সৎ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নির্বাচক আসলো।
বর প্রতিযোগিতা গুলা কখনও পরীক্ষার ল্যাবটরী হতে পারেনা। আমাদের এই ভ্রান্ত ধারনা থেকে বের হতে হবে। এক বালতি দুধ নষ্ট করবার জন্য যেমন এক ফোটা গোমূত্র যথেষ্ট, একটি পূর্নাঙ্গ দলের টিম স্পিরিট নষ্ঠ হবার জন্য বারংবার ব্যর্থ এক প্লেয়ার যথেষ্টর থেকেও অনেক বেশী। একজন অভিজ্ঞ প্লেয়ার কেন মানুষের দয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে এটা হয়ত সেই ভালো জানে। নিজের উপর আস্থা না থাকলেই এটা সম্ভব। নির্বাচকদের ভাবা উচিত, যার নিজের উপরই আস্থা নেই, গোটা দেশ তার উপর কিভাবে আস্থা রাখতে পারে। দই পাতলে যদি বার বার তা নাড়িয়ে পরীক্ষা করা হয় সেটা জমছে কিনা দেখবার জন্য। সেই দুধের জন্য দই হওয়াটা কখনই সম্ভব না। দুধ টাকে একটু সময় দেওয়া উচিত।

একজন পেশাদার প্লেয়ার হিসাবে মাশরাফীর উচিত আরো বেশীফেটনেসের প্রতি সচেষ্ট হওয়া। তার মনে প্রশ্ন আসা উচিত কেন সেই ি বার বার ইনজুরীতে পরেন, কিভাবে এটা কাটানো যায়।
আজ জতার মিছিল বের হয়েছে, আবেগ সামলাতে পারেনি সমর্থকেরা। পারবার কথা নয়, এটাই স্বাভাবিকতা।। এটাকে সাদারণ ঘটনা হিসাবে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই ভালো, কারণ আপনাদের ক্রকেটই খেলতে হবে। সমর্থকদের উচিত জয়ে খুব বেশী উল্লসিত না হওয়া; কারন তাদের উল্লাসই পরবর্তী পতন টেনে আনে।
পরিশেষে, সিডন্স এর শিকড় একটু হালকা করবার সময় হয়েছে। তাকে মনে করিয়ে দিতে হবে সে শিখাতে এসেছে, নীতি নির্ধারণ করতে নয়। সাংগঠনিক ব্যাক্তিদের প্রতি অনুরোধ খেলার মাঠে অন্তত কোন প্রকার রাজনীতিকে টানবেন না। কারণ, ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা একদলীয় নয়, এটা জাতিগত। অন্তত একটা বিষয়ে গোটা জাতিকে আপনারা এক থাকতে দিন।

Saturday, January 1, 2011

বর্ষন্ত ও বর্ষরম্ভ

১লা জানুয়ারীর গুরুত্ত্ব একটু অন্যরকম ছিল ছোটবেলাতে। সাধারণত এই দিনটিতে শুরু হত নতুন ক্লাসের প্রথম পড়াশোনা। তখন খুব মনে হত কবে আমরা ২০০০ সাল দেখব আর কবেই বা দেখব ২০১০ সাল এমনি দুেরে দুরের সাল গুলো। এখন আর সেরকম আশাটি খুব বেশী একটা করি না। ইংরেজী নতুন বর্ষ আমার কাছে তেমন কোন প্রভাব ফেলত না। তবে বছরের শুরুতে অনেক অনেক চিন্তাভাবনা নিয়ে শুরু করতাম, কিন্তু বছেরে শেষে এসে তার খুব কমই মিলিয়ে দেখা হত।
বর্তমানে বছরের শেষ দিন থেকে শুরু করে বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত খুবই উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায় তরুন তরুনীর মধ্যে। কিন্তু তার পর শূন্যতা। কত রকমের শুভকাঙ্খা থাকতে পারে তারই যেন প্রতিযোগীতা; মোবাইলের এসএমএস বহর, ফেসবুক নামক সমাজে পোস্টের পর পোস্ট আর তার সাথে রকমারী কমেন্টস। তারপর বছর শেষ। বছরের বাকী ৩৬৩ দিন আর কোন খবর রাখিনা আমরা; খবর রাখিনা একবারের জন্য আসা বছরটিকে আমরা কতটা ভালো রেখেছি। সরকার আর বিরোধী দল নামে প্রতিটি দিনকে স্মরনীয় করে রাখবার মেকী প্রতিযোগীতায়, আর তথা কথিত যুবারা নামে যুবতীকে কটাক্ষ করার ভুমিকায়। বছর প্রতিবছরই নিরাশ হয় আমাদের কাছে। আর কতদিন নিরাশ রাখব আর। আমরা কেন শুধু ওর কাছ থেকে ভালো ভালো চাইব কিন্তু নিজেরা ভালো কিছু করব না।

Friday, December 17, 2010

এস, সমবেত হই আমরা

এমন দু:সময় আমরা অতিবাহিত করছি যে, কোন ব্যাপারেই আমরা একমত হতে পারি না। একমত হওয়াতো দূরের কথা নিজেরাই বুঝতে পারিনা কোন মতটা আমাদের প্রকাশ করা উচিত। সকাল বেলাতে যে মতের স্বীকারোক্তির জন্য আমরা হই পাগল, বিকাল বেলাতেই নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য হয় সেই মতেরই প্রতিপক্ষ। আমরা আজ প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে আছি, নিজেরা কত ভালো এটাই প্রমান করবার জন্য। সাধারণত দু'ভাবে আমরা নিজেকে ভালো প্রমান করতে পারি; এক। নিজে ভালো কিছু করে আর দুই হল প্রতিযোগীকে আরো নীচে নামিয়ে। নিজেকে জয়ী করবার জন্য আমাদের পছন্দ দ্বিতীয়টি। সত্যিই পরিতাপের বিষয় আমাদের মায়ের জন্য। সেতো স্বপ্নেও এরকমটি একবারের জন্যও ভাবেনি, কেউই নিজের জন্য খারাপটি ভেবে রাখে না। ভাগের মা গঙ্গা পায় না, আমাদের মায়েরও সে রকমেরই বিষয়।ত্রিশ লক্ষ সন্তানহারা মা আজ নির্বিকার তার বেঁচে থাকা সন্তানদের কার্যকলাপ দেখে। তার সন্তানেরা আজ দ্বিধাবিভক্ত। এই মায়ের সোনায়সোহাগা সংসার দেখে কে না হিংসা করেছে; আর আজ কিনা সবাই করতে চায় তাকে অবজ্ঞা অবহেলা। সেই যে শুরু দ্বিজাতি তত্ত্ব দিয়ে, তার পর শুধুই ভাগ আর ভাগ; কত ছোট ভাগ করা যায় সেটারই পাল্লা। মায়ের সন্তানেরা আজ এতটাই বিভাজিত কোন কিছুতেই আজ আর ঐক্যমত নামক শব্দের কোন ছায়া নেই। রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধা, ভারত-পাকিস্তান, আওয়ামীলীগ-বিএনপি, সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, নারী স্বাধীনতা-পুরুষ প্রাধান্যতা,ধর্মহীনতা-ধর্মনিরেপেক্ষতা এরকমেই হাজারো ইস্যুতে সন্তানেরা আজ বিভক্ত। তারা নিজেরা সামান্য কিছু করার থেকে অন্যর সামান্য প্রচেষ্টার মধ্যে অসামান্য ত্রুটি খুঁজতে সময় ব্যায় করেন। টেলিভিশনের পর্দা জুড়ে আজ টকশো মায়ের সন্তানদের বিনোদন টুকুও কেড়ে নিছে বিভাজনের কড়াল গ্রাসের মাঝখানে।
মায়ের ত্রিশ লক্ষ সন্তানের আত্মা কতটা শান্তিতে আছেন, মা শুধুই এটাই হয়ত ভাবে। আর প্রতীক্ষা করে আরো একটি রেঁনেসার। মা কখন অশা ছাড়ে না; মা জানে সাত কোটি সন্তানের মধ্যে যদি ত্রিশ লক্ষ সন্তানের আত্মা মায়ের পায়ে সমর্পন করতে পারে; ষোল কোটির মধ্যে নিশ্চয় কম হবে না, বেশীয় হবে। মা শুধু জানে না, তার সন্তানেরা এখন আধুনিক হয়েছে!দু:খিনী মায়ের জন্য কিছু করার থেকে বরং যারা করেছে সেই করাটার মান যাচাই বাছাই করতে তাদের বেশী ভালো লাগে। তাদের এই বিশ্বাসটি নেই যে তাদের নিজেরও কিছু করার আছে।
৭১ এর সেই দু:সময়ে, পাক বাহিনী সবাইকে হত্যা করলেও তাদের প্রধান পছন্দ ছিল এদেশের যুব সম্প্রদায়। কারণ তারা যে কোন কিছু ঘটাতে পারে এটাই ছিল তাদের আতংক। সেটা মিথ্যা প্রমানিত হয়নি। তারাই ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা আনেনি কোন বিশেষ ব্যাক্তি বা সম্প্রদায়। আর এটা কারোর পৈতৃক সম্পত্তিও হতে পারে না। আজ আমাদের মাকে তার এই মূমুর্ষ অবস্থা থেকে সুস্থ করতে হলে এগিয়ে আসতে হবে তাদের কেই। ঐক্যমত হতে হবে মাকে বাঁচানোর জন্য। দেশপ্রেম আর মানবধর্মই পারে আমাদের জাতীয়তাটাকে সমুন্নত রাখতে। আমাদেরকেই আনয়ণ করতে হবে আমাদের রেঁনেসাকে। তরুন,আর কতদিন আমরা মাকে কষ্ট দেব?

Saturday, December 11, 2010

পল অ্যাসাঞ্জ: যে সবাইকে ভাবায়

পল অ্যাসাঞ্জ সম্ভবত দুনিয়ার প্রথম কোন রেপিষ্ট যাকে ধরবার জন্য ইন্টারপোল ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। যারা বিষয়টি জানেন না তারা হয়ত ভাবতে পারেন সেকি কোন সাইকো সিরিয়াল রেপিস্ট নাকী এমন বড় কাউকে সে ব্যবহার করেছে তার গোপন ইচ্ছা চরিতার্থ করবার জন্য। আপনারা একদম যে ভুল তা কিন্তু নয়। আসলেই সে বিবস্র করে দিয়েছে ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’কে যা কিনা আমেরিকার অহংকার। শুধু কি তাই আরো কতজনের প্রতি সে তার লোলুপ দৃষ্টি ফেলেছে, সেজন্যই বিশ্বজুড়ে রেড এলার্ট চালু হয়েছিল তাকে যে কোন ভাবে হোক বেশী কিছু করবার আগে ধরবার জন্য।
তিনি ধরা দিয়েছেন। তার যদি এখানেই সমাপ্তি হয়, তারপরেও সেটা ভালো। পৃথিবীর সব রথিমহারথিরা অন্তত কিছু দিনের জন্য হলেও তাদের পর-বিনাশকারী কার্যকলাপে সেভাবে মননিবেশ করতে পারেন নি। যারা কিনা প্রতিনিয়ত মত্ত থাকে একে অন্যকে বিনাশ করবার খেলায়, তারাই সব একহয়ে লেগেছিল পল অ্যাসাঞ্জ কে ধরবার জন্য। কারন তারা বুঝেছিল, এই ব্যক্তি শুধুমাত্র ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’কে বিবস্র করে ক্ষান্ত হবে না, লোলুপ দৃষ্টিতার আরো অনেক জায়গাতেই।
অ্যাসাঞ্জের চাহিদাটি খুব বেশী নয়, সে চায় তথ্যর উন্মুক্ততা। সে খোলাসা করতে চেয়েছিল, গদবাধা দৃশ্যমান জগতের পাশাপাশি যে গোপন অধ্যায়টি সব সময়ই চলতে থাকে তাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া।এটা ঠিক পরিস্কার না তার মনোবাসনা কেন এইরুপ হল। হয়তবা বিশ্বকে বেশী কিছু দেবার থেকে, বৃহত্তর ক্ষতি সাধনের মধ্যে দিয়ে নিজের তৃপ্তি পাওয়াটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তার সেই সার্থটাকেই হয়ত একটা রুপ দিয়ে সেটাকে বৃহৎ স্বার্থতে পরিনত করে সে খুব মজাঔ পাচ্ছিল। তার অতীত তাকে একজন হ্যাকার রুপেই পরিচিত করিয়ে দেয়।
গ্রাম দেশে একটি কথা খুবই পরিচিত-"বেটা নষ্ট হাটে, আর বউ নষ্ট ঘাটে"। কেন? উত্তর একটাই সেখানে তথ্যর অবাধ স্বাধীনতা থাকে; মানুষ নিজের উন্নতি বাদ দিয়ে পরচর্চাতেই বেশী আনন্দ পায়। তথ্যা উন্মুক্ততা কোন কোন ক্ষেত্রে খুব বেশী প্রয়োজন নেই। ছোট্ট একটি পরিবারের কথা বিবেচনা করলেও দেখা যায় অনেক কথা গোপন রাখলে সেটা পরিবারের সাম্যবস্থা রাখতে বেশী অগ্রনী ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে, অ্যাসাঞ্জ যে জন্য সুইডেন কে পছন্দ করেছিল তার কার্যকরমকে এগিয়ে নেবার জন্য সেটা হল সেদেশের আইন ব্যবস্থা। কারন সুইডেনের আইনে তথ্যর সর্বাতক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেই আইনেই মহিলাদের সম্মান রক্ষার্থে রয়েছে আরো জোরালো ধারা।সেই ধারার জের ধরেই তার কাজ আজ থমকে যাওয়ার উপক্রম। এই ঘটনা আমাদের মত সাধরন মানুষকে এটাই জানান দেয়, বৃহৎ কিছু করবার আগে মানুষকে নিজের মধ্যে ভালোকিছুর অনুশীলন করা সবার আগে প্রয়োজন।

লেখক: প্রণবানন্দ পাল
ভাবনাবিদ(ভাবনাজীবি নয়)